
(৪ ঘন্টা আগে) ২ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, ১২:৫৭ অপরাহ্ন
সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রুখে দিতে আলেম-ওলামা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন।
যৌতুক ও মাদককে সমাজের জন্য অত্যন্ত ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি উল্লেখ করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে সবার আগে নিজেদের মনের ইচ্ছা, মন-মানসিকতা ও চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন আনতে হবে। ব্যক্তিবিশেষ বা অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; যৌতুক ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে নিজের ঘর ও পরিবার থেকেই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে।
শনিবার (১লা আগষ্ট) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে আঞ্জুমানে রজরিয়া ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত ‘যৌতুক ও মাদক মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একদিকে দীন ও মানবিকতার কথা বলি, আবার অন্যদিকে বিয়েতে যৌতুক ও অতিরিক্ত বরযাত্রীর অজুহাতে কন্যাপক্ষকে চাপে ফেলি—যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যৌতুকের কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের আশেপাশেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। আমরা নিজেদের মেয়ের সাথে যে সম্মানজনক ও মানবিক আচরণ করি, ঠিক একই আচরণ যদি ছেলের স্ত্রীর সাথেও করি, তবে সমাজ থেকে যৌতুকের নিপীড়ন চিরতরে দূর হবে। যে ভালো কাজ অন্যকে করার নসিহত করছি, তা আগে নিজের পরিবারে বাস্তবায়ন করতে হবে।
যুব সমাজ ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা প্রসঙ্গে ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন আরও বলেন, মাদক সমাজকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খল ও ধংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিগত ১৭ বছরে আমাদের নীতি, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের যে চরম অবক্ষয় হয়েছে, তা থেকে বের হতে হলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। পাড়া, মহল্লা ও গ্রামে অপরাধীদের পরিচয় গোপন থাকে না। এমনকি নিজের সন্তানও যদি মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে, তাকেও আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর মাধ্যম তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম), বেতার-টেলিভিশন ও পথনাটক দিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার বাড়াতে হবে। একই সাথে আলেম-ওলামাগণ ওয়াজ মাহফিল ও শুক্রবারের খুতবায় যৌতুক ও মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে পারেন। সমাজকে কলুষমুক্ত করতে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভাবে সকলকে সম্মিলিত ভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।
মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী (মু.জি.আ)-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত কনফারেন্সে বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।