
(৩ মাস আগে) ৬ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৭:৪৩ পূর্বাহ্ন
চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দ্রুত শনাক্ত ও দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সড়ক ও অলিগলিতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, এসব ক্যামেরা শুধু ভিডিও ধারণই করে না, বরং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম। ফলে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানো এবং অপরাধীকে শনাক্ত করা আগের তুলনায় অনেক সহজ হচ্ছে।
নওগাঁ শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্তির মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে পোলের মাঝামাঝি অংশে ৪ থেকে ৬টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে শহরের সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রায় ৩৮ দশমিক ৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নওগাঁ শহরে সাড়ে তিন লাখ মানুষের বসবাস। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে জেলা পুলিশ।
নওগাঁ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক আতাউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই শহরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি ছিল। বর্তমান জেলা পুলিশের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ায় তারা প্রশংসার দাবিদার।
ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, এই সেবা যদি শহরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সম্প্রসারণ করা যায়, তাহলে অপরাধ আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, এখন আর কেউ অপরাধ করে সহজে পালিয়ে যেতে পারবে না। ক্যামেরার ফুটেজ ও এআই প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ১১টি উপজেলা ও ৯৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নওগাঁ জেলায় পর্যায়ক্রমে উপজেলাগুলোতেও এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।