
(২ মাস আগে) ৭ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ৮:৫৬ অপরাহ্ন
সিলেটে এসেছিলেন গান শোনাতে। মাজারের আসরে গেয়েছিলেন জীবনের শেষ গান। কিন্তু সেই গান শেষে আর কিশোরগঞ্জের বাড়িতে ফেরা হলো না তরুণ বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবীর। সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল মাত্র ১৮ বছরের এই শিল্পীর প্রাণ।
বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশার বৈরাগী বাজারে হজরত ছাবাল শাহ্ (রহ.)-এর মাজারে গান পরিবেশন করেন পেহেলি। সুরের মূর্ছনায় রাত কাটিয়ে শুক্রবার সকালে বাবার সঙ্গে বাড়ির পথে রওনা দেন তিনি। কিন্তু সেই পথেই অপেক্ষা করছিল মর্মান্তিক পরিণতি।
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপার কোচের ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন পেহেলি। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হয়েছেন তার বাবা।
অথচ কয়েক ঘণ্টা আগেও নিজের ফেসবুকে সিলেটে গান গাইতে আসার খবর জানিয়েছিলেন পেহেলি। সবাইকে অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে লিখেছিলেন—‘আশে পাশে যারা আছেন আজকে দাওয়াত রইলো।’
কে জানত, মানুষের প্রতি সেই শেষ আমন্ত্রণই হয়ে থাকবে তার জীবনের শেষ বার্তা!
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চন্ডিবের এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে পেহেলি ছিলেন মাজারে-মাজারে গান গাওয়া উদীয়মান বাউলশিল্পী। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই যার কণ্ঠে ফুটে উঠেছিল বাউলগানের সুর, সেই কণ্ঠ এখন চিরতরে নীরব।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত অন্তত ৯ জনের একজন পেহেলি ভৈরবী। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোক নেমে এসেছে পরিবার, স্বজন, ভক্ত এবং বাউল-লোকসংগীত অঙ্গনে।
যে শিল্পী সিলেটে এসেছিলেন গান দিয়ে মানুষের মন ভরাতে, সেই সিলেট থেকেই তাকে ফিরতে হলো নিথর দেহে।
পেহেলির শেষ গান থেমে গেছে। কিন্তু তার কণ্ঠের স্মৃতি হয়তো থেকে যাবে তার গানপ্রেমী মানুষগুলোর হৃদয়ে—চিরদিন।