banglahour

অভাবে মাথার চুল বিক্রি

সারাদেশ | মনিরুল ইসলাম দুলু। বাগেরহাট প্রতিনিধি।

(২ মাস আগে) ৯ আগস্ট ২০২৬, রবিবার, ১২:২৮ অপরাহ্ন


দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন এক অসহায় মা। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের স্বামীপরিত্যক্তা রেহানা খাতুন ঘরভাড়ার মাত্র ৫০০ টাকা মেটাতে না পেরে নিজের মাথার সব চুল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে নিজের মাথার চুল বিসর্জন দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি; বকেয়া দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত মাথা গোঁজার ঠাঁই ঝুপড়ি ঘরটিও ছেড়ে দিতে হয়েছে তাকে।

 

পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন তিনি সরকারি সফরে এলাকার বাইরে থাকায় রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের  নির্দেশ প্রদান করেছেন।


বাগেরহাটের রামপালে দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামে এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন রেহানা খাতুন। দারিদ্র্যের কষাঘাতে ঘর হারিয়ে এখন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে রেহানা ও তার দুই সন্তানের। একসময় ভাড়া করা একটি ঝুপড়ি ঘরে থাকলেও দীর্ঘদিন ভাড়া দিতে না পারায় সেই আশ্রয়ও হারাতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫০০ টাকা ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে এই অসহায় মাকে।
ঘটনাটি রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেহানা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের মধ্যে দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোভাবে দিন পার করছিলেন। মাথা গোঁজার স্থায়ী জায়গা না থাকায় কখনো পরিচিতদের বাড়িতে, আবার কখনো ভাড়া করা ছোট্ট ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিতেন। কিন্তু সামান্য সেই ভাড়াও পরিশোধ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত ঘর ছাড়তে হয় তাকে। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশে সরকারি জমিতে স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর তৈরির চেষ্টা করছেন রেহানা। কয়েক মাস ধরে সেখানে বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও অভাবের কারণে ঘরটি আর সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ফলে প্রখর রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়ের মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।


স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। কারণ জানতে চাইলে কাঁদতে কাঁদতে জানান, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে তিনি নিজের চুল বিক্রি করেছেন।


সন্তোষপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব  বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। তার স্বামী দুই সন্তানসহ তাকে ফেলে চলে গেছেন অনেক আগে। আমরা গ্রামবাসি সরকারের কাছে দ্রুত অসহায় এই পরিবারটিকে একটি ঘরের ব্যবস্থাসহ সহযোগীতা করার দাবী জানাই।


স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশের কাঠামো তৈরি আছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই ঘরটি সম্পূর্ণ করা যাবে। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও প্রশাসন এগিয়ে এলে অসহায় পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা সম্ভব।


রেহানার জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া বিলাসবহুল কোনো ঘর নয়। দুই সন্তানকে নিয়ে বৃষ্টির রাতে যাতে ভিজতে না হয়, রোদে যাতে পুড়তে না হয় এবং রাতে যাতে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন, এমন একটি ছোট্ট টিনের ঘরই তার স্বপ্ন।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নেই, খাওয়ার কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করেছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।
রেহানার এই গল্প শুধু একজন অসহায় নারীর গল্প নয়, এটি দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। যে মা সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের সৌন্দর্য বিসর্জন দিতে পারেন, সেই মায়ের কাছে আজও একটি নিরাপদ আশ্রয় অধরা।


এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত রেহানার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) 
তামান্না ফেরদৌসী বলেন, ওই অসহায় নারীকে খাদ্য সহায়তা ও সরকারিভাবে ঘর ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল