
(১ দিন আগে) ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে শুরু হয়েছে মাছ শিকার। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ দিতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়।
নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে নেমেছেন হাজারো জেলে। জাল-নৌকা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে জেলেরা, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরেছে জীবিকার গতি। এতে দীর্ঘদিন পর কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে হ্রদপাড়ে, স্বস্তি ফিরেছে জেলে পরিবারগুলোতেও। তবে কাঙ্খিত মাছ পাওয়ার ওপরই নির্ভর করছে তাদের এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে।
নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবারও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কাপ্তাই হ্রদ। ভোরের আলো ফুটতেই নৌকা নিয়ে হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় ছুটছেন জেলেরা। কারও হাতে জাল, কারও নৌকায় মাছ ধরার সরঞ্জাম-আবারও জীবিকার সন্ধানে হ্রদের বুকে ছুটছেন তারা। তবে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন ধরে রাখতে নিয়ম মেনে মাছ আহরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের এক আদেশে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে মাছ শিকার নিষিদ্ধ করে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার মধ্যরাত থেকে আবারো মাছ শিকার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। দীর্ঘ সময় মাছ শিকার বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার নিয়ে অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরার সুযোগ পাওয়ায় তাদের চোখে-মুখে এখন স্বস্তির ছাপ।
রাঙ্গামাটি বিএফডিসি ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোঃ ফয়েজ আল করিম জানান, কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস ১৫ দিন মাছ শিকার বন্ধের পর মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় রাঙ্গামাটির বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে প্রথম দিনে প্রচুর পরিমাণ মাছ এসেছে। তবে প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে মাছের আকার কিছুটা ছোট। তবে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বিস্তারের কারণে মাছের উৎপাদন আগামী দিনের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
হ্রদের বিশাল জলরাশি রাঙ্গামাটির অর্থনীতি ও বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আর দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার শুরু হওয়ায় একদিকে যেমন জেলেদের জীবিকায় ফিরেছে স্বস্তি, অন্যদিকে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন ধরে রাখতে এখন প্রয়োজন নিয়ম মেনে মাছ আহরণ এবং কার্যকর নজরদারি। তাহলেই কাপ্তাই হ্রদ হতে পারে জেলেদের টেকসই জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস।
তাই স্থানীয়রা মনে করেন, কাপ্তাই হ্রদ শুধু রাঙ্গামাটির অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস নয়, এটি পাহাড়ের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। তাই হ্রদকে বাঁচিয়ে রেখে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং জেলেদের স্থায়ী জীবিকার সুযোগ তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাই তাদের প্রত্যশা-সরকারি নজরদারি, জেলেদের সচেতনতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে কাপ্তাই হ্রদ হয়ে উঠবে আরও সমৃদ্ধ মৎস্যভাণ্ডার। আর এর সুফল পৌঁছাবে হ্রদপাড়ের হাজারো জেলে পরিবারের ঘরে।