
(১ ঘন্টা আগে) ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ৭:০৭ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের শিংপাড়া গ্রামের আবু তাহের নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগ করেছেন ওই ইনিয়নের বাসিন্দা ব্যবসায়ী সেলিম রেজা সফি।
মঙ্গলবার সরোজমিনে গিয়ে দেখে এমনই চিত্র পাওয়া যায়। আবু তাহের (৬০) সালন্দর শিংপাড়া গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে।
সরোজমিনে জানা গেছে, আবু তাহের ছেলের চাকুরীর জন্য ২০১৮ সালে ব্যবসায়ী সেলিম রেজা সফির কাছে ৬ লাখ ধার নেন। পরে সেই ধারের টাকার বিনিময়ে তাহের নিজ মালিকানা জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলে সফি তা ক্রয় করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং রেজিষ্ট্রি মূলে সাড়ে ১২শতক জমি ক্রয় করেন। সফি ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে নিজের নামে নামজারি করে নেন। সেই সূত্র ধরে বসতবাড়ি স্থাপনের লক্ষ্যে মাটি ভরাট করেন। ২০২১ সালে সয়েল টেষ্ট করান এবং পরবর্তীতে ব্যাংকে মর্গেজ দিয়ে ঋণ গ্রহণ করেন।
সরোজমিনে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি সফি তার নিজ মালিকানা জমিতে প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এমন সময় আবু তাহেরের ছোট ভাই আবুল কালাম বাঁধা দেয় এবং রাস্তা সংলগ্ন ১০৫ ফিটের মধ্যে অর্ধেক জমি দাবি করেন। পরে বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। সরোজমিনে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয় সফি জমি ক্রয়ের পর মাটি ভরাট ও সাইনবোর্ড স্থাপন করে ৮ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ ভাবে দখলে আছেন। দীর্ঘদিন পর আবুল কালামের দাবী যুক্তিসংগত ও আইনসম্মত নয়। আবুল কালাম অবৈধভাবে শান্তি ভঙ্গ করতে পারবে না। আবু তাহের ও আবুল কালাম তাদের নিজেদের অংশ আনুপাতিক হারে অবশিষ্ট জমি থেকে বুঝিয়ে নিবেন।
স্থানীয়রা ও এলাকাবাসী জানায়, সফির বিরুদ্ধে আবুল কালাম যে মামলা দিয়েছে তা সম্পূর্ণরুপে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এর সাথে বাস্তবের কোন মিল নেই। এই ঘটনার তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সফি জমি ক্রয়ের পর মাটি ভরাট করেছে, সাইনবোর্ড দিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষস্বাক্ষী আইয়ুব আলী জানান আবু তাহের এবং আবুল কালাম এতোদিন হয়ে গেলো কিছুই বললনা কিন্তু এখন এসে বলতেছে। এর যৌক্তিকতা আছে বলে মনে হয় না। এগুলো হয়রানি ছাড়া কিছুই নয়।
আবু তাহের বলেন মাটি ভরানোর সময় আমার ভাই নিষেধ করেছে। কাগজ কলমে ঠিক আছে বলে স্বীকার করলেও কারোই কথা মানতে নারাজ তিনি। তাহেরের ছোট ভাই আবুল কালাম বলেন আমাদের ক্রয়কৃত জমি। আমাদের সমান সমান অংশ। আমি সফিকে আগেই নিষেধ করিছিলাম। সালিস আমার মনমতো হয়নি, সে জন্য মামলা করেছি।
ক্রয় সূত্রে জমির মালিক সেলিম রেজা সফি বলেন আমি জমি ক্রয় করে খারিজ করে নিয়েছি। স্থাপনা তৈরীর জন্য সয়েল টেষ্ট করিয়েছি। মাটি ভরাট করে রেখেছিলাম এবং সাইন বোর্ড দিয়েছিলাম। এতোদিন ধরে তারা কিছুই বলেনি। এখন এসে ঝামেলা করছে।
সালন্দর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলে এলাহী মুকুট চৌধুরী বলেন সফি ম্যাপ করে জমি ক্রয় করেছে। আমরা বসে উভয় পক্ষে এ টু জেট শোনার পরে মনে হয়েছে সফি তার কাগজপত্র থেকে শুরু করে সব দিক থেকে সঠিক পথে আছে। কিন্তু তারা এটা কেন করছে আমার বোধগম্য নয়।