
(৬ ঘন্টা আগে) ২৪ আগস্ট ২০২৬, সোমবার, ৬:৪২ পূর্বাহ্ন
খুলনা ডুমুরিয়ায় খাল খননে দূর্নীতি, ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৫শ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা ব্যর্থ। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পের ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হল উপজেলা প্রশাসন। পানি অপসারন না করে ভেক্যু দিয়ে পেড়ি মাটি উত্তোলন, ২ টি খাল খননে অনিয়ম ও জলাবদ্ধতা নিরসন অনিশ্চিতের খবরে বিভাগীয় কমিশনার ২ দফা মুঠো ফোনে কথা বলার পর সরকারী কোষাগারে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার।
গত ১৩ আগষ্ট জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে এক লিখিত পত্রের মাধ্যে অর্থ ফেরতের নিদের্শ দিলে তিনি এই অর্থ জমা দেন। তবে এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টাকা ফেরত না দিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কয়েক দফা চিঠি দিয়ে ছিলেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।
অন্যদিকে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন’ প্রকল্পের ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া তুই স্লুইজ গেটের সামনে মাটির কোন হদিস পাওয় যায়নি। নাম মাত্র একটি বেড়ি বাঁধ দেয়া হয়েছে। যার দক্ষিন পাশেও পানি। মাঝখানের বেড়িতে রোপনকৃত চারা এখন পানির নীচে। এ ঘটনায় দূনীর্তিবাজ ইউএনও এর বিরুদ্ধে যথা যথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন উপজেলা বাসী।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী জনগুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন, পুনঃখনন এবং খালপাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অগ্রাধিকার ভিক্তিতে খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার ৩টি খাল অগ্রধিকার দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এ ৩টি খালের মধ্যে ২টি খাল পুনঃখননের অনুমোদন দেয়া হয়। কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণপাশ্বের আশি ফুট পর্যন্ত খাল পুনঃ খনন, যার দৈর্ঘ ৭ কিলো মিটার। খালটির পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ১১ হাজার ৮৪৩ টাকা। এর মধ্যে ৩৯ লাখ ৪৪ হাজার টাকা শ্রমিকদের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেয়া হয় । এ ছাড়া ৯০ লাখ ৭১ হাজার ৮৪৩ টাকা আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ। অন্যদিকে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালী গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলো মিটার খাল পুনঃ খনন। এ কাজের অর্থিক বাজেট ধরা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা।
যার মধ্যে শ্রমিকদের কাজের জন্য বরাদ্দ ৬৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং আধুনকি যন্ত্রের সাহায্যে খাল পুনঃখননরে জন্য বরাদ্দ ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ টাকা। ত্রান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ইজিপিপি অর্থাৎ অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন খাল ২টির পুনঃখননের কার্যক্রম শুরু করেন। তবে খালের পানি অপসারন না করে ভাসমান ভেক্যু দিয়ে পেড়ি মাটি তুলে ফেলে খালের পাড়েই। যে কারনে আবারও পানিবন্দী হয়ে পড়ার অশংঙ্কা দেখা দেয় ডুমুরিয়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। এতে ফুসে ওঠে উপজেলাবাসী। বিলডাকাতিয়ার নিমতলা খাল খননের কাজ ৫০ ভাগ শেষ হলেও কাগজ কলমে ৭১ ভাগ দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে দ্রুত জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রকল্পের অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা । ফলে এই প্রকল্পে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৯১ হাজার ৮শ ৪৩ টাকা বরদ্দ দেয়া হলেও জলাবদ্ধতা নিরসন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যে করনে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচী এ অঞ্চলে কোন সুফলই আসছেনা।
এ ঘটনায় প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ উঠে। শ্রমিকদের কাজে না নিয়ে বরাদ্দকৃত ১ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৫শ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন উপজেলাবাসী। এ খাল খনন কাজ পরর্দিশনে এসে ছিলেন ত্রান মন্ত্রণালযরে যুগ্ম সচবি মিনাক্ষী ব্রম্ম। তিনি প্রকল্প কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে নকশাঁ অনুযায়ি ও পানি অপসারন করে খাল খননরে নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসন খাল পুনঃখননের কাজ করতে ব্যর্থ হয়।
সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন’ প্রকল্পের ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইসগেটের সামনে মাটির কোন হদিস পাওযা যায়নি। নামমাত্র একটি বেড়ি বাঁধ দেয়া হয়েছে। যার দক্ষিন পাশেও পানি। এর মাঝখানের বেড়িতে চারা রোপনকৃত চারা এখন পানির নীচে।
একটি খাল খননের কাজ কাগজ কলমে ৭১ ভাগ, অপরটি শতভাগ দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে দ্রæত জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রকল্পের অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করা । ডুমুরিয়া এ খাল দুটি পুনঃখনের অর্থ সরকারী কোষাগারে ফেরত না দিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নির্বাহী অফিসার কয়েক দফা লিখিত পত্র পাঠান জেলা প্রশাসকের দপ্তরে।
ডুমুরিয়া উপজেলার ২খাল পুনঃ খননের সার্বি পরিস্থিতি ও নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকারে বিরুদ্ধে দূর্নীতির সংবাদ গত ৭ জুলাই জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর নড়ে চড়ে বসে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন । দূর্নীতির বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে দুই দফা মুঠো ফেনে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুল্লাহ হারুন। এ সময় তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসা সবিতা সরকারকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি খাল খনন প্রকল্পের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য গত ১৩ আগষ্ট জেলা প্রশাসকের দপ্তরের এক পত্রের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশ পাওয়ার পর ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসা সবিতা সরকার ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে ফেরত দেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিযা বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন’ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। খাতা কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।
এছাড়া বিলডাকাতিয়ায় খনন করা খালের পাড়ে দেয়া মাটির অধিকাংশ স্থানে অস্তিত্ত নেই। অপরদিকে ডুমুরিয়া ফুলতলা এলাকার সবচেযে বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া ’কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে হযেছে ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন জানান, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হযেছে। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।
এ বিষয়ে জানতে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার’ কে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। তবে একাধিক মিডিয়া কর্মীর কাছে টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
খুলনা জেলা ত্রান ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মোঃ আব্দূল করিম বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি খাল খননের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কাজ হযেছে সেটি সরেজমিনে দেখে সে অনুযায়ি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুযায় ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিয়েছে। ডুমুরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রকল্পের এমন বেহাল দশা হলে অন্য প্রকল্পগুলো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় এলাকাবাসী।