
(২ ঘন্টা আগে) ২৫ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮:১৩ অপরাহ্ন
জাতীয় সংসদ ভবনের মতো অত্যন্ত সংরক্ষিত ও ভিআইপি এলাকাকে হাতিয়ার বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক চাঞ্চল্যকর প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রূপালি সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এই কৌশলে প্রতারকরা ভুয়া অতিরিক্ত সচিব সেজে একের পর এক মানুষকে সর্বশান্ত করে আসছিল। সম্প্রতি ডিবি পুলিশের অভিযানে এই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করার পর বেরিয়ে এসেছে তাদের প্রতারণার নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ভুক্তভোগীদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি বেছে নিত জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যান্টিন ও রেস্টুরেন্ট। সাধারণত সংসদ ভবনে প্রবেশ সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কঠিন, আর এ কারণেই এই স্থানটিকে আলোচনার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হতো, যাতে ভুক্তভোগীরা মনে করেন তারা সত্যিই প্রভাবশালী ও বড় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। যাতায়াতের জন্য তারা ব্যবহার করত ভাড়া করা দামি দামি বিলাসবহুল গাড়ি। চালচলনে সরকারি বড় কর্মকর্তার ভাব বজায় রেখে শুরু হতো মূল প্রতারণা।
গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানা গেছে, চক্রটি সাভারের কবিরপুরের একটি নির্দিষ্ট জমিকে দেখিয়ে একাধিক মানুষের সঙ্গে ভুয়া বায়না চুক্তি করত। একটি জমি দেখিয়েই একের পর এক মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। এছাড়া, সাধারণ ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের টার্গেট করে সরকারি দপ্তরের ফার্নিচার সরবরাহ, বড় ওয়ার্ক অর্ডার ও নানা সরকারি প্রকল্পে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা আদায় করা হতো।
এই ঘটনার অন্যতম অবিশ্বাস্য ও ভাবিয়ে তোলার মতো দিক হলো চক্রের প্রধান ব্যক্তির অতীত। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই কথিত ভুয়া সচিব নিজেও একসময় এমন এক প্রতারণার শিকার হয়ে বিপুল টাকা খুইয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই নিজেই গড়ে তোলেন এক বিশাল প্রতারণা চক্র।
এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, প্রতারকরা এখন কেবল মিথ্যা কথার ওপর ভিত্তি করে ঠকায় না; বরং বিশ্বাসযোগ্যতার একটি পুরো কৃত্রিম পরিবেশ বা ‘মঞ্চ’ তৈরি করে। দামি গাড়ি, ভিআইপি লোকেশনে বৈঠক কিংবা সরকারি পদের বড় বড় গল্প মানেই সত্যি নয়। বিশেষ করে জমি কেনাবেচা, সরকারি টেন্ডার, সাপ্লাই অর্ডার বা বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয় ও সমস্ত কাগজপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই না করে অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।