
(১ ঘন্টা আগে) ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার কাজ করিয়ে বিল আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং প্রভাবশালী ঠিকাদারের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি।
তার দাবি, একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং সরকারি দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দোসররা সরাসরি সামনে না এসে আড়াল থেকে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর নেপথ্যে সরকারবিরোধী একটি চক্রও সক্রিয় থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “সরকারি অর্থ ব্যক্তিগতভাবে উত্তোলন কিংবা আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি প্রতিটি কাজ নির্ধারিত আইন, বিধিমালা, আর্থিক ক্ষমতা, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মৌখিকভাবে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকার কাজ করিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেইনি এবং কোনো বিল আত্মসাৎও করিনি।”
তিনি আরও বলেন, অভিযোগকারীরা যে ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তার পক্ষে বৈধ কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, ওয়ার্ক অর্ডার, অনুমোদিত প্রাক্কলন কিংবা সরকারি নথিপত্র রয়েছে কি না তা যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো মিস্ত্রি বা সাব-কন্ট্রাক্টর যদি কোনো ঠিকাদারের অধীনে কাজ করেন, তাহলে তাদের পারস্পরিক বিল বা আর্থিক লেনদেনের দায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বহন করবে না। ঠিকাদার ও তার নিয়োজিত সাব-কন্ট্রাক্টর বা শ্রমিকদের মধ্যকার আর্থিক বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব চুক্তির আওতাভুক্ত।
তার দাবি, সরকারি কোনো দপ্তরের কোটি টাকার কাজ শুধুমাত্র মৌখিক নির্দেশে সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। অথচ এসব মৌলিক বিষয় উপেক্ষা করে তার বিরুদ্ধে আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রকৌশলী শহিদুল বলেন, “কেউ যদি দাবি করেন যে তিনি সরকারি কোনো কাজ করেছেন, তাহলে তার কাছে অবশ্যই কাজের বৈধ কাগজপত্র, কার্যাদেশ ও দাপ্তরিক অনুমোদনের প্রমাণ থাকার কথা। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর।”
প্রভাবশালী ঠিকাদারের মাধ্যমে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কাউকে দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে হুমকি দেইনি। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অপকর্ম করে থাকলে সেটিও তদন্ত করে দেখা উচিত।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমন গুরুতর অভিযোগ প্রচার করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজেই চাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হোক। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনসহ যে কোনো সংস্থা তদন্ত করুক। তদন্তে আমার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি সবসময় নিয়মনীতি অনুসরণ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে কোনো ঠিকাদার বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ কিংবা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে একতরফা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তই সব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে।