banglahour

বান্দরবানের দুর্গম জনপদে বিশুদ্ধ পানির কল: বাড়ির পাশেই মিলছে বিশুদ্ধ পানি

সারাদেশ | বান্দরবান প্রতিনিধি।

(২ মাস আগে) ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন


এক সময় বান্দরবানের দুর্গম এলাকার মানুষের নিত্যদিনের কাজ ছিল পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নেমে ঝিরি-ছড়া থেকে পানি আনা। এ কাজের বড় অংশই করতে হতো নারী ও শিশুদের। শুষ্ক মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়ত। তবে সেই বাস্তবতা এখন অতীত, ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে, জিএফএস,রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম,গভীর নলকূপ, রিংওয়েল ও স্যানিটেশন।

এর ফলে জেলার ৭টি উপজেলা ২টি পৌরসভাসহ ৮৫টি দুর্গম পাড়ার বাসিন্দারা পাচ্ছেন বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা ও উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে নতুন পানির উৎস স্থাপন,পাইপলাইন সম্প্রসারণ,গভীর নলকূপ স্থাপন এবং আধুনিক স্যানিটেশন ল্যাট্রিন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,
বান্দরবান জেলার সকল উপজেলায় বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন বিষয়ক প্রকল্পের আওতায়, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর । ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থ সালের বরাদ্ধে রয়েছে,জেলায় ১২টি জিএফএস মেরামত,নতুন করে আরও ১০টি জিএফএস নির্মাণ,৫৮৩টি রিংওয়েল নির্মাণ,১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন,৮৫টি গভীর নলকূপ নির্মাণ। এবং পাড়া ভিত্তিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৮৫টি টিউবওয়েল থেকেই প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করে জেলার বিভিন্ন এলাকা ৮৫ টি পাড়ায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ৩০টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে বান্দরবান সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প এর আওতায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দুর্গম এলাকায় গভীর নলকূপ, জিএফএস, রিংওয়েল এবং অন্যান্য পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে।

বান্দরবান মেঘলা এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও কনক চাকমা বলেন, আগে পানি সংগ্রহের জন্য অনেক দূরে যেতে হতো। এখন সেই কষ্ট অনেকটাই কমে গেছে। তারা বলেন,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের করা দেওয়া গভীর নলকূপের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ঘরের নিত্যদিনের ব্যবহারের পানি পাচ্ছি।

লম্বা রাস্তা এলাকার সুফিয়া খাতুন জানান, আগে রাস্তার পাশে পাহাড়ি ঝিড়ি থেকে ঘোলা পানি সংগ্রহ করতে হতো।  এখন পুরো এলাকার মানুষ ঘরের পাশেই পানির সুবিধা পাচ্ছে। আগের মতো আর কষ্ট করতে হয় না।

টিএনটি পাড়ার কারবারি অংবাই মারমা জানান, এই এলাকার মানুষের একমাত্র পানির উৎস ছিল অনেক দূরে পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি ঝিরি। ঝিরির পানি নোংরা ও ময়লাযুক্ত হলেও কয়েকটি পাড়ার হাজারো মানুষকে এর ওপর নির্ভর করতে হতো এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ পাড়ায় গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ির পাশে পানির ট্যাপ বসিয়ে দিয়েছে। ফলে ঘরে বসেই সুপেয় পানি পাচ্ছি।

বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন,পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে বান্দরবানের দুর্গম এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়।

তিনি আরো জানান, সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলায় দূর্গম গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) মেরামত এবং নতুন জিএফএস, রিংওয়েল,রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম,গভীর নলকূপ ও পাড়া-ভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। যেসব এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন সম্ভব হয়নি,সেখানে বিকল্প প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যার কারণে কিছু স্থাপনার প্লাস্টার ও রঙের কাজ বাকি থাকলেও প্রকল্পের মূল কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি বাসিন্দারা জানান,এই প্রকল্প শুধু আমাদের স্বাস্থ্যের উন্নতিই করেনি,পর্যটন জেলা বান্দরবানের সার্বিক ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেছে।
তারা আরও বলেন, স্থাপিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বান্দরবানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে সুপেয় পানির এই স্বস্তির ধারা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকবে।
.........................

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল