
(৫ ঘন্টা আগে) ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (এনইউবিটি) খুলনার প্রায় ৩২ লাখ টাকার আর্থিক হিসাব এবং গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক নথিপত্র বুঝিয়ে না দিয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে যোগদানের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মোঃ মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হরিণটানা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ মাহমুদ হাসান (জব আইডি: ০৩১৬০১৪) এনইউবিটি খুলনায় সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন। এসব কাজের জন্য তিনি ট্রাস্টি বোর্ডের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৩২ লাখ ৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার লেফটেন্যান্ট কর্নেল কে এম ইমাম আহসান (অব.) স্বাক্ষরিত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক অফিস আদেশে তাকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে সকল আর্থিক হিসাব এবং জমি-জমা সংক্রান্ত দাপ্তরিক নথিপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই নির্দেশনা অনুসরণ না করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের ছাড়পত্র (এনওসি) গ্রহণ না করেই খুলনা খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
এ ঘটনায় ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এনইউবিটি খুলনা কর্তৃপক্ষ হরিণটানা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। অভিযোগে অসম্পূর্ণ কাজ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গৃহীত অর্থের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আইনগত সহায়তা চাওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এনইউবিটি খুলনা কর্তৃপক্ষ খুলনা খান বাহাদুর আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ছাড়পত্র ছাড়াই অনিয়মতান্ত্রিকভাবে মাহমুদ হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের সকল হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তি এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য তাকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে হিসাব ও নথিপত্র বুঝিয়ে না দিয়ে চাকরি ত্যাগ করা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন। গৃহীত অর্থ ও দাপ্তরিক কাগজপত্র উদ্ধার এবং হিসাব নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।