
(৫ ঘন্টা আগে) ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৪:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৫ অপরাহ্ন
এটিএম শামসুজ্জামান ছিলেন একজন কিংবদন্তি বাংলাদেশী অভিনেতা, পরিচালক, কাহিনীকার এবং চিত্রনাট্যকার। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে খলনায়ক এবং কৌতুক অভিনেতা হিসেবে অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত।
এটিএম শামসুজ্জামান এর পুরো নাম ছিলো আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। তিনি ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী (নানা বাড়ি) জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার ভোলাকোটে। তার বাবার নাম নূরুজ্জামান, তিনি ছিলেন নামকরা উকিল এবং মায়ের নাম নুরুন্নেসা বেগম।
ষাট এর দশকে চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের সহকারী পরিচালক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত 'নয়নমণি' সিনেমায় খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
খলচরিত্রের বাইরেও 'রামের সুমতি', 'যাদুর বাঁশি', 'ম্যাডাম ফুলি' ও 'চুড়িওয়ালা'-র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর হাস্যরসাত্মক অভিনয় দর্শকদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং ২০০৯ সালে 'এবাদত' নামের একটি সিনেমা পরিচালনাও করেন।
সিনেমায় অবদানের জন্য তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৫ সালে শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করেন। তিনি মোট ৬ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান (১ বার আজীবন সম্মাননাসহ)।
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা: দায়ী কে ? (১৯৮৭),
শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা: ম্যাডাম ফুলি (১৯৯৯), চুড়িওয়ালা (২০০১), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা: চোরাবালি (২০১২)
এটিএম শামসুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সূত্রাপুরের দেবেন্দ্রনাথ দাস লেনে নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মরদেহ জুরাইন কবরস্থানে তাঁর বড় ছেলে কামরুজ্জামান কবীরের পাশে সমাহিত করা হয়।