
(৫ ঘন্টা আগে) ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ১২:১৫ অপরাহ্ন
দুর্নীতি প্রতিরোধ ও রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যমকর্মীরা দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে প্রধান সহায়তাকারী শক্তি এমন মন্তব্য করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হতে হয় বলেন তিনি। তবে কোনো অবস্থাতেই হতাশ হয়ে পিছিয়ে যাওয়া যাবে না। গণমাধ্যম ও টিআইবি পিছু হটলে দুর্নীতিবাজ ও সুশাসন বিরোধী শক্তিই জয়ী হবে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ জন্য গণমাধ্যম ও টিআইবিকে একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করে যেতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ওপেন ডেটা শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক। অনুষ্ঠানে ডিজেএফবি’র সভাপতি আরিফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ রিপন, টিআইবি’র পরিচালক আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, টিআইবি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গবেষণামূলক কাজের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সবসময়ই সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা, উৎকর্ষতা এবং অনুসন্ধানী ক্ষমতার বিকাশ ঘটাতে টিআইবি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নে নিয়মিত এ ধরনের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ, ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মাঠপর্যায়ে সেমিনার এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়। এ বছর ইতোমধ্যে ১০টি অনুসন্ধানী ফেলোশিপ অফার করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এ সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের যেসব দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে, সেখানে অবশ্যই গণমাধ্যমের স্বাধীন অনুসন্ধানী ভূমিকাকে অপরিহার্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হলেও থেমে থাকলে হবে না।
অনুসন্ধানের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার, অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি জনসমক্ষে তুলে ধরা সম্ভব হয়। এর ফলে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার জায়গায় নিয়ে আসার জন্য গণদাবি ও সামাজিক চাপ তৈরি করা যায়, যা সুশাসনের পথ তৈরী হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো স্বাধীনতাই সীমাহীন বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে হতে পারে না। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও পেশাগত ক্ষমতার সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতাও সরাসরি যুক্ত। তাই গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্তভাবে অনুসন্ধানী কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীকেও দলীয় ঊর্ধ্বে থেকে স্ব-উদ্যোগে পেশাগত নৈতিকতা ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সমাজ ও দেশকে দুর্নীতি মুক্ত করা সম্ভব।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ সকল পর্যায়ের বাড়াতে হবে। কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এখানে আমাদের ব্যর্থতা রয়েছে। এর দায় এড়াতে পারি না তবে থেমে থাকলে চলবে না নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।