
(২ ঘন্টা আগে) ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ৩:০৬ অপরাহ্ন
উজানের ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক। পানি ঢুকে পড়ায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়ে ২১ দশমিক ৭৪ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি এখনো বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। অপরদিকে মহানন্দা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ২২ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর পানি ২ দশমিক ২২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত পদ্মা নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার এবং আলাতুলি ইউনিয়নে ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার, উজিরপুরে ২৫০ এবং দুর্লভপুর ইউনিয়নে আরও ২৫০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
পানিবন্দি বাসিন্দারা জানান, পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ায় চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমন ও আউশ ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরের চারপাশে পানি থাকায় নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। গবাদিপশু নিয়েও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩০০ পরিবারের বাড়ির উঠানে পানি ঢুকেছে। সড়ক ডুবে যাওয়ায় নৌকা ছাড়া যোগাযোগের উপায় নেই।
সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজির হোসেন বলেন, ইউনিয়নের নিচু এলাকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রায় ১ হাজার পরিবার পানির মধ্যে রয়েছে। ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
আলাতুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙনের আশঙ্কাও রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বন্যার কারণে সদর উপজেলার দুটি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টি ও বন্যায় জেলার পাঁচ উপজেলায় ৫৬ দশমিক ৫ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে ২ দশমিক ৯ হেক্টর আউশ ধান, ৪ হেক্টর আমন ধান, ৩১ দশমিক ৫ হেক্টর মাসকলাই, ১৪ দশমিক ২ হেক্টর শাক-সবজি, ৩ দশমিক ৪ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা এবং শূন্য দশমিক ৫ হেক্টর হলুদ।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর আলম জানান, সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পানি আরও বাড়লে এ সংখ্যা বাড়তে পারে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, পাঁকা, দুর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ১০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। তাদের তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।