
(১৭ ঘন্টা আগে) ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ৬:০৩ অপরাহ্ন
কনকচাঁপা বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। তার পুরো নাম রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। তিনি ১৯৬৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। তার দাদা বাড়ী সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে। তবে কনক চাঁপা বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। তার বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে কনক চাঁপা তৃতীয়।
চলচ্চিত্র, আধুনিক গান, নজরুল সঙ্গীত, লোকগীতি সহ প্রায় সবধরনের গানে তিনি সমান পারদর্শী। বর্তমানে প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ৩৪ বছর ধরে সংগীতাঙ্গনে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন কনকচাঁপা। তিনি চলচ্চিত্রের তিন হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার প্রকাশিত একক গানের অ্যালবামের সংখ্যা ৩৫ টি। চলচ্চিত্রের গান নিয়ে তার সর্বশেষ প্রকাশিত অ্যালবাম ‘আবার এসেছি ফিরে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের প্রায় প্রতিটি গানেই কণ্ঠ দিয়েছেন কনকচাঁপা।
কনকচাঁপা বাংলাদেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বশীর আহমেদের ছাত্রী। দীর্ঘদিন তার কাছে উচ্চাঙ্গ, নজরুল সংগীতসহ অন্যান্য ভারতীয় সংগীতের তালিম নিয়েছেন। তবে আজ এই পর্যায়ে আসার জন্য তিনি সব সময় তার পিতা আজিজুল হক মোর্শেদ ও স্বামী মইনুল ইসলাম খান এ দুজনের অবদান মনে করেন।
কনকচাঁপা অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কন্ঠ দিয়েছেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে :
যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে (খালিদ হাসান মিলু এর সাথে),
তুমি আমার এমনই একজন,
অনেক সাধনার পরে আমি (খালিদ হাসান মিলু এর সাথে),
অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে (আইয়ুব বাচ্চুর সাথে),
তুমি মোর জীবনের ভাবনা (এন্ড্রু কিশোর এর সাথে),
তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই (এন্ড্রু কিশোর এর সাথে),
ভাল আছি ভাল থেক (এন্ড্রু কিশোর এর সাথে),
আমার নাকেরই ফুল বলে,
তোমায় দেখলে মনে হয়,
আকাশ ছুঁয়েছে মাটিকে,
থাকত যদি প্রেমের আদালত,
এমন একটা দিন নাই,
আমি মেলা থেকে তাল পাতার,
কোন কাননের ফুল গো তুমি (খালিদ হাসান মিলু এর সাথে)
প্রেম হইলো রে বাবুই পাখির বাসা,
এছাড়া আরো অসংখ্য জনপ্রিয় গানে কন্ঠ দিয়েছেন কনকচাঁপা।
গানের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও কনকচাঁপার সুখ্যাতি রয়েছে। ২০১০ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘স্থবির যাযাবর’, ২০১২ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’ ও ২০১৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় ‘মেঘের ডানায় চড়ে’ নামে তার লেখা তিনটি বই প্রকাশিত রয়েছে। বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলামও লেখেন তিনি। ২০২০ সালে তার জীবনী মূলক বই কাটা ঘুড়ি প্রকাশিত হয়েছে।
শ্রেষ্ঠ নারী প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিনের পরে তিনিই সর্বোচ্চ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও কনকচাঁপা বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, দর্শক ফোরাম পুরস্কার ১৯৯৮ এবং ১৯৯৯, প্রযোজক সমিতি পুরস্কার ১৯৯৫,
মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ পুরস্কার (৪ বার)
এছাড়া আরো অসংখ্য সম্মান ও পুরস্কারে ভুষিত হন।
জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী কনকচাঁপার জন্মদিনে বাংলা আওয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।