
(১ ঘন্টা আগে) ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২:২৬ অপরাহ্ন
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এমপির উপস্থিতিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা ছিল না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন সাংবাদিক অনুষ্ঠান বর্জন করে বেরিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার তাদের ফিরে আসার অনুরোধ জানান।
একই দিন বিকেলে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নতুন করে বিড়ম্বনার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, অনুষ্ঠান ও খেলার ভিডিও ধারণের সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয় এবং মিডিয়া কাভারেজে বাধা দেয়। এতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটে।
সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, যেখানে মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, সেখানে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. তারিক-উজ-জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রীর প্রটোকলজনিত ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেন এবং পরে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি সভায় সাংবাদিকদের জন্য আলাদা মিডিয়া গ্যালারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন সাংবাদিক ক্যামেরা ও স্ট্যান্ড নিয়ে এমন স্থানে অবস্থান করছিলেন, যেখানে প্রধান অতিথি ও দর্শকদের খেলা দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। সে কারণেই তাদের নির্ধারিত স্থানে যেতে বলা হয়।
সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, “সমস্যাটি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়েছিল। সীমিত জনবল নিয়ে বড় আয়োজন করায় কিছু সমন্বয়গত সমস্যা হয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তারা ভবিষ্যতে সরকারি অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া আয়োজনগুলোতে গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।