
(২ ঘন্টা আগে) ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১:৫৬ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলায় যাতায়াত এখন আরও সহজ ও সুবিধাজনক হতে যাচ্ছে। সুগারমিল আদর্শগ্রাম থেকে কাউখালী উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক সম্প্রসারণের কাজের মাধ্যমে উন্মোচিত হচ্ছে দুই অঞ্চলের যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত। সড়কটির কাজ শেষ হলে দূরত্ব কমার পাশাপাশি অবসান ঘটবে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির। আর সড়কটি নির্মিত হলে কাউখালী উপজেলার মানুষ সরাসরি চট্টগ্রাম যেতে পারবে।
জানা যায়, কর্মব্যস্ত দিনশেষে বাড়ি ফেরা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বিভাগীয় শহর চট্টগ্রামে যাতায়াত-প্রতিদিনের এই যাত্রায় কাউখালীবাসীর জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল জরাজীর্ণ সড়ক। দুর্গম পথ আর যাতায়াতের নানা সীমাবদ্ধতায় প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হয় কয়েক হাজার মানুষকে। তবে সেই দৃশ্যপট এবার বদলাচ্ছে। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া সুগারমিল আদর্শগ্রাম থেকে কাউখালী উপজেলা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর সংযোগ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ। এতে করে এই ১২ কিলোমিটারের রাস্তার কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে কাউখালীর যোগাযোগে খুলতে পারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
এলজিইডি তথ্যমতে, ১২ কিলোমিটারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রথম ধাপে সাড়ে ৭ কিলোমিটার অংশের কাজ চলছে দুটি আলাদা প্যাকেজে। যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ২৪ কোটি টাকা। সুগারমিল হতে তারাবনিয়া বৌদ্ধ বিহার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার ও তারাবনিয়া বৌদ্ব বিহার হতে কাউখালী উপজেলা সদর ৩ কিলোমিটার। রাস্তার প্রশস্ত হবে ১৮ফুট। আর সরকারের এই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজটি সরাসরি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স।
আর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি হলে পাহাড়ি-বাঙালি সকলের উপকারে আসবে। এতে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে কাউখালী উপজেলাবাসীর। সড়কটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে এই এলাকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। পাশাপাশি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।
এই ব্যাপারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ ইউনুস বলেন, একটি চক্র ভুয়া সংবাদ পরিবেশন করে প্রতারনার ফাঁদ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালােচ্ছ । সরকারের উন্নয়ন কাজকে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টি করার জন্য মরিয়া এই চক্রটি। চট্টগ্রামের সুনামধন্য টিকাদার প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্সের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ করা করার জন্য এই অপচেষ্টায় তারা লিপ্ত। কাউখালীবাসীর প্রাণের দাবি সকল ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা বাদ দিয়ে এখন যে ভাবে সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে সেভাবে সড়কের উন্নয়নের কাজ দ্রুত শেষ করা হউক। আর এতে করে সড়কের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে কাউখালীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। কমবে যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি। পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও পাবেন নতুন সুযোগ।
রাঙ্গামাটি জেলা এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী পারভেজ সরোয়ার বলেন, কাউখালী উপজেলা হতে সুগারমিল সড়কটি প্রশস্ত হবে ১৮ ফুট। ৭কিলোমিটার সড়কের কিছু কিছু জায়গায় ড্রেনসহ পিজ ঢালাই সড়ক হবে। ২টি প্যাকেজে ৭ কিলোমিটার কাজের প্রায় ৫০শতাংশ কাজ শেষ হয়ে আসছে। ২ প্যাকেজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৪ কোটি টাকা। রাস্তার কাজের গুনগতমান নিয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি। এলজিইডি থেকে কাজের মান নিয়ে কড়া মনিটরিং করা হচ্ছে। তবে রাস্তাটি হয়ে গেলে কাউখালী উপজেলার মানুষ সরাসরি চট্টগ্রাম থেকে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে পারবে। রানীরহাট হতে কাউখালী যে সড়কটি আছে সেটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কেবল দূরত্বই কমায় না, বদলে দেয় একটি এলাকার অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার রূপরেখা। এই ১২ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের কাজটি দ্রুত শেষ হলে চট্টগ্রাম-কাউখালী রুটে তৈরি হবে যোগাযোগের এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।