
(২৫ মিনিট আগে) ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ৪:১৯ অপরাহ্ন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে দেওয়া ভাষণে তিনি বিশ্বশান্তি, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও এই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ও জনগণের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি দেশের স্বার্থ ও একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থার প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘে বক্তব্য রাখছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বিরোধের সমাধান আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্বব্যবস্থা প্রত্যাশা করে যেখানে অস্ত্রের পরিবর্তে কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা হবে পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার।
সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন খাত থেকে অর্থ সরিয়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যয় করা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। তিনি পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
‘সবার আগে বাংলাদেশ: সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে তরুণরা তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাবে, শিশুরা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ লাভ করবে এবং জনগণ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণে জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।