
(২৭ মিনিট আগে) ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ৪:২২ অপরাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের নির্বাচিত সফল চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ নেতা মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বসতঘরে রাতের আঁধারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দীর্ঘদিনের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ঘরটি। ঘরের ভেতরে থাকা দামি আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার দরিকান্দি ইউনিয়নের খাল্লা গ্রামের মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বসত বাড়িতে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান তারা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘরটিতে। আগুনের তীব্রতায় ঘরের কাঠ ও টিন কাঠামোসহ ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
সকালে আগুনে পোড়া ঘরটি দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন এলাকার মানুষ। এমন একটি পুরোনো ঘর এভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের বাবা মরহুম জীবন মিয়াও দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। সেই সূত্রে তাদের পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপনের পৈতৃক বাড়ির এই ঘরটিও ছিল পরিবারের দীর্ঘদিনের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ।
স্বপনও টানা তিনবার এই দরিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এই ঘরটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন বর্তমানে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিহিংসার জেরধরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এবিষয়ে দরিকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল হক দানিস বলেন, “স্বপন চেয়ারম্যানের এই ঘরটি ছিল একটি রাজনৈতিক ঐতিহ্য। এখান থেকেই ইউনিয়নের রাজনৈতিক ও চেয়ারম্যানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। এমন নির্মম ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
এবিষয়ে মির্জা শফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, “এটি আমার বাবার আমলের অনেক দামি কাঠের তৈরি প্রাচীন ঘর। এই ঘর আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ইউনিয়নের মানুষের জন্য এবং এলাকার উন্নয়নে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। কিন্তু প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ঘরটি পুড়িয়ে দেওয়া হবে—এটা ভাবতেও পারছি না। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, পুলিশ তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে এটাই আমার প্রত্যাশা।”
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”