
(৩৯ মিনিট আগে) ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, ৭:০৯ অপরাহ্ন
গাছ লাগানোকে ভালোবাসা ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার সহরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আতিয়ার রসুল। ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থানে গাছ ও বীজ রোপণ করে আসছেন তিনি। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ের এই পথচলায় এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ফলদ ও বনজ গাছ এবং তাল-খেজুরবীজ রোপণ করেছেন বলে জানান তিনি।
মোঃ আতিয়ার রসুল মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের সহরাই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল হাই চেয়ারম্যান।
২০১২ সালে কাদিয়াল নাউরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তাঁর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে উইপিং, বকুল, কাঠবাদাম, জাম, আমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাস্তা, সড়কের মোড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ ও কবরস্থানে গাছ লাগাতে থাকেন। বট ও পাকুড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছও রয়েছে তাঁর রোপণ করা গাছের তালিকায়।
আতিয়ার রসুল জানান, বিভিন্ন সময়ে রোপণ করা গাছের সঠিক সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে তাঁর ধারণা, বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা গাছের সংখ্যা প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার। এর মধ্যে রাস্তার পাশে রোপণ করা অনেক গাছ দুষ্টু লোকজনের ক্ষতি এবং গরু-ছাগল-ভেড়ার কারণে নষ্ট হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রোপণ করা অনেক গাছ এখনো বেড়ে উঠছে।
বৃক্ষরোপণে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব তাল ও খেজুরবীজ রোপণের ওপর। ২০২০-২১ সাল থেকে নজিপুর-বদলগাছী সড়কের নোধনী মোড় থেকে মাতাজিহাট হয়ে চাকরাইল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার তালবীজ ও ৫ হাজার ৫০০ খেজুরবীজ রোপণ করেছেন তিনি।
এছাড়া মাতাজিহাট-মহাদেবপুর সড়কের মাতাজিহাট থেকে মগলিশপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫০০ তালবীজ রোপণ করেন। একই সড়কের বিভিন্ন অংশে কৃষ্ণচূড়া, জাম, বকুলসহ অসংখ্য গাছও রোপণ করেছেন তিনি। এসব গাছের অনেকগুলো বর্তমানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।
এ ছাড়া বেলট রাস্তা, উকিলের মোড় থেকে আলতাদিঘী সড়ক, আলতাদিঘী মোড় থেকে দাউল বারবাকপুর সড়ক, কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়া সড়ক এবং কৃষ্ণপুর থেকে কুড়াইল সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে আরও প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন আতিয়ার রসুল। এসব বীজের অনেকগুলো থেকে বর্তমানে গাছ হয়েছে।
নিজ গ্রামের রাস্তাতেও রয়েছে তাঁর বৃক্ষরোপণের ছোঁয়া। সহরাই গ্রাম থেকে সহরাই মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, চেরিফুল ও জামগাছ রোপণ করেছেন তিনি। বর্তমানে এসব গাছ সড়কের পাশে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
এছাড়া সহরাই গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে সৌদি খেজুরের বীজ রোপণ করেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর রোপণ করা কিছু সৌদি খেজুরের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার অবস্থায় রয়েছে। এসব চারা শিগগিরই বিভিন্ন মাদ্রাসা ও মসজিদে বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আতিয়ার রসুল বলেন, গাছ লাগানোর সঠিক সংখ্যা বলা কঠিন। ২০১২ সালে শুরু করার পর থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় গাছ ও বীজ রোপণ করে আসছেন তিনি। বিশেষ করে তাল ও খেজুরবীজ রোপণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর লাগানো গাছগুলো বড় হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ছায়া, ফল ও সবুজ পরিবেশ তৈরি করবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, নিজের সন্তান ও বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছেন শিক্ষক আতিয়ার রসুল। তাঁর লক্ষ্য, নিজের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকেও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা এবং গাছের প্রতি মমত্ববোধ গড়ে তোলা।
স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কবরস্থানে গাছ লাগিয়ে চলা শিক্ষক আতিয়ার রসুলের উদ্যোগটি পরিবেশের জন্য ইতিবাচক একটি দৃষ্টান্ত। তাঁর রোপণ করা গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় বাড়ছে সবুজের সৌন্দর্য।