banglahour

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে ৫ শিক্ষকসহ ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন

সারাদেশ | বিলকিস সুমি। ব্যুরো প্রধান। সিলেট।

(১ মাস আগে) ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার, ৬:৫২ অপরাহ্ন


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোমবার দুপুরে তারা রেজিস্ট্রারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।


এদিকে এ ঘটনার পর পরই উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ 
পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএজি ওসমানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কাওছার হোসেন, শহীদ জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, হযরত শাহজালাল (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, হযরত শাহপরান (র.) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, দূররে সামাদ রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদার, ঢাকার গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ মো. বাসির উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গাজী মো. জহিরুল ইসলাম, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান, ক্যাম্পাসের গেস্ট হাউসের অফিসার ইনচার্জ গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও ডেপুটি রিজিস্ট্রার মো. বাসির উদ্দিন।


তাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এর মধ্যে রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও মেরামতের কাজ করা হলেও এসব কাজে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে টেকওভার করার আগেই সেখানে কিছু মেরামতকাজ করা হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে যথাযথ দরপত্র প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।


ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগ তুলে পদত্যাগকারীরা জানান, ইলেকট্রনিকস ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক নিয়োগে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


তারা জানান, আটজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের অধিকাংশকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
পদত্যাগকারী এক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।’
নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন প্রার্থী উপাচার্যের নিজ এলাকা বা পরিচিতজন এমন অভিযোগও করেছেন পদত্যাগকারীদের একজন।


পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা আরও জানান, তারা প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম হয়নি। তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পরই এসব কার্যক্রম হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


এদিকে পদত্যাগের পরপরই প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সেখানে বক্তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানি, নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
পদত্যাগকারী শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তিনি উপাচার্যের অপসারণ দাবি করেন।


পদত্যাগকারী শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. কাউছার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও উপাচার্যের অপসারণ দাবি করে বলেন, সাম্প্রতিক কয়েকটি নিয়োগে নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।


তবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের তোলা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।
তিনি বলেন, একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ তুলছে। যাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা যোগ্যতা সম্পন্ন। নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল