
(১০ ঘন্টা আগে) ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ৫:০৭ অপরাহ্ন
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পর থেকে পাহাড়ের শান্তি ও উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জুরাছড়ি জোনের বিদায়ী জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসি।
তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনী কাজ করছে। হেডম্যান, কারবারী ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জুরাছড়ি জোনের উদ্যোগে বনযোগীছড়ায় আয়োজিত হেডম্যান ও কারবারী সম্মেলন-২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন, নবাগত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহরিয়ার আলম, পিএসসি। অনুষ্ঠানে বিদায়ী জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ হাসান সেজান, এসপিপি, পিএসসিও উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অনিল বরণ চাকমা, জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনন্যা চাকমা, স্থানীয় হেডম্যান করুনাময় চাকমা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জুরাছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন, রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. মোরশেদুল আলমসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এতে ২৪ জন হেডম্যান ও ১১৩ জন কারবারী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে নবাগত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ। স্থানীয় সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে তিনি হেডম্যান ও কারবারীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান জোন কমান্ডার।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি জুরাছড়ি জোনের পরিচালিত বিভিন্ন টহল কার্যক্রমে হেডম্যান ও কারবারীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সম্মেলনে জানানো হয়, পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে জুরাছড়ি জোনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়ে থাকে।
মেজর আলী ইমরান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে হেডম্যান করুনাময় চাকমা, মগবান মৌজার হেডম্যান সুজিত দেওয়ান, ৩ নম্বর দুমদুম্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাধনানন্দ চাকমাসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী হেডম্যান ও কারবারীদের জন্য মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এ সময় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, রক্ত পরীক্ষা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ট্যাবলেট ও প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ বিতরণ করা হয়।
সম্মেলন শুরুতে বিদায়ী ও নবাগত জোন অধিনায়কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অনিল বরণ চাকমা, স্থানীয় হেডম্যান, কার্বারী, জনপ্রতিনিধিগণ।