
(৭ ঘন্টা আগে) ১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০:১২ অপরাহ্ন
শচীন দেব বর্মন ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন কিংবদন্তি সুরকার সংগীত পরিচালক এবং লোকসংগীত শিল্পী। লোকসংগীতের সুরের সাথে উচ্চাঙ্গসংগীতের এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলা ও হিন্দি গানের জগতে চিরস্থায়ী আসন তৈরি করে নিয়েছেন তিনি।
১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর তৎকালীন ত্রিপুরার অন্তর্গত কুমিল্লার রাজপ্রাসাদে (বর্তমান বাংলাদেশ) তিনি জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণ ছিলেন ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারের সন্তান এবং একজন সেতারবাদক ও ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী। তাঁর মা নিরুপমা দেবী ছিলেন মণিপুরি রাজবংশের কন্যা।
পিতার কাছে প্রাথমিক শিক্ষার পর তিনি সংগীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দে, উস্তাদ বাদল খান, উস্তাদ আলাউদ্দিন খান এবং ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রখ্যাত গুণীজনদের কাছ থেকে সংগীতের দীক্ষা নেন শচীন দেব বর্মন।
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ১৯২৪ সালে বিএ পাস করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ পড়তে যান তিনি।
১৯৩৮ সালে তিনি সংগীতশিল্পী মীরা দাশগুপ্তকে বিয়ে করেন, তিনি শচীন দেব বর্মনের বহু কালজয়ী গানের গীতিকার ছিলেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান রাহুল দেব বর্মন (আর ডি বর্মণ)-ও ভারতের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সংগীত পরিচালক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
১৯৩৭ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শচীন তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৪৪ সালের দিকে স্থায়ীভাবে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। তিনি বলিউডের মূলধারার সংগীতে আধুনিকতা ও লোকসংগীতের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন।
শচীন দেব বর্মনের গাওয়া ও সুর করা অবিস্মরণীয় গানের মধ্যে রয়েছে—‘টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’, ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’, ‘কে যাস রে ভাটি গাঙ বাইয়া’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু কাল কেন আসোনি’, এবং ‘শোন গো দখিনা হাওয়া’।
সংগীত পরিচালক হিসেবে তাঁর সুরারোপিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে গাইড (১৯৬৫), আরাধনা (১৯৬৯), অভিমান (১৯৭৩), ট্যাক্সি ড্রাইভার (১৯৫৪), এবং জুয়েল থিফ (১৯৬৭)।
সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন: ১৯৬৯ সালে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত পদ্মশ্রী পুরষ্কারে ভূষিত হন।
১৯৭০ সালে আরাধনা সিনেমার জন্য (সেরা নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী) এবং ১৯৭৪ সালে জিন্দেগি জিন্দেগি সিনেমার জন্য (সেরা সংগীত পরিচালক) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
১৯৫৪ সালে ট্যাক্সি ড্রাইভার এবং ১৯৭৩ সালে অভিমান চলচ্চিত্রের জন্য সেরা সংগীত পরিচালক হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন।
কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক শচীন দেব বর্মন ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।