
(৬ ঘন্টা আগে) ১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
ভুয়া জমা রসিদে আউটলেটের সিল এবং নিজের মোবাইল থেকে ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে গ্রাহকদের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও হয়েছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এক এজেন্ট পরিচালক। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তাফালবাড়ি বাজার আউটলেটের পরিচালক ওমর ফারুক রাজুর বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিপুল অঙ্কের এই অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে গোপনে নেপাল পাড়ি জমিয়েছেন এবং সেখান থেকে ইউরোপে ঢোকার চক্রান্ত করছেন।
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ওমর ফারুক রাজুর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং তালা ঝুলছে ব্যাংকের আউটলেটটিতে। তিনি সাউথখালী ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে।
শত শত গ্রাহক এখন তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালে তাফালবাড়ি বাজারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা চালু করেন রাজু। স্থানীয় পরিচয় ও আত্মীয়তার সুবাদে তিনি দ্রুত মানুষের আস্থা অর্জন করেন। এক লাখ টাকা জমা রাখলে মাসে দুই হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি শতাধিক মানুষের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ শুরু করেন। কিন্তু ব্যাংকের মূল সিস্টেমে টাকা জমা না করে তিনি ভুয়া রসিদ দিতেন এবং গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে নিজের ফোন থেকেই পাঠাতেন জমার ভুয়া এসএমএস।
প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসার পর ৩০ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষ থেকে শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
এদিকে, জালিয়াতির খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা শাখাটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে সামনে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছেন এবং প্রতারিত গ্রাহকদের দ্রুত জেলা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরমর্শ দিয়েছেন।
এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একের পর এক জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা চরম হুমকির মুখে পড়ছে। অবিলম্বে পলাতক রাজুকে গ্রেফতার করে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এজেন্ট আউটলেটগুলোর ওপর মূল ব্যাংকের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।