
(৮ ঘন্টা আগে) ৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ৯:৩৩ অপরাহ্ন
১২ কেজি সিলিন্ডার এলপিজির দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে দেশের এলপিজি ব্যবহারকারী কোটি কোটি মানুষের ওপর প্রতিদিন অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হবে। বর্তমান মোট এলপিজি ব্যবহারের আনুমানিক হিসাব ধরে ভোক্তাদের সম্মিলিত অতিরিক্ত ব্যয় দিনে প্রায় ৮৬ থেকে ৯২ কোটি টাকা হতে পারে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারে ভোক্তাকে আগের চেয়ে ২৫২ টাকা বেশি গুনতে হবে।
দিনে অতিরিক্ত প্রায় ৯০ কোটি টাকা
বাংলাদেশে বছরে আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। ১২ কেজি সিলিন্ডার হিসেবে এই পরিমাণকে হিসাব করলে প্রতিদিন কয়েক দশ লাখ সিলিন্ডারের সমপরিমাণ এলপিজি ব্যবহৃত হয়।
প্রতি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা অতিরিক্ত ধরলে, দৈনিক অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ৮৬ থেকে ৯২ কোটি টাকা।
অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পড়তে পারে ভোক্তাদের ওপর।
মাসে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা
দৈনিক গড়ে ৯০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হলে ৩০ দিনে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
একই হারে এক বছরে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩২ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।
তবে এলপিজির প্রকৃত ব্যবহার মাসভেদে পরিবর্তিত হওয়ায় এটি একটি আনুমানিক হিসাব।
পুরো টাকা কি সরকার পাবে?
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রতি সিলিন্ডারে বাড়ানো ২৫২ টাকা পুরোটা সরকারের আয় বা রাজস্ব নয়। এলপিজির মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয়, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উপাদান থাকে। এর সঙ্গে কর ও ভ্যাটের বিষয়ও যুক্ত থাকে।
তাই “সরকার প্রতিদিন ৯০ কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে নিচ্ছে”—এভাবে পুরো ৯০ কোটি টাকাকে সরকারি রাজস্ব হিসেবে দেখানো সঠিক হবে না।
বরং বলা যায়, দাম বৃদ্ধির কারণে এলপিজি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন আনুমানিক ৮৬–৯২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। এই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট মূল্য-শৃঙ্খলের বিভিন্ন ব্যয় ও করের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ
এলপিজি এখন শুধু রান্নার কাজে নয়, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নার জন্য সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
ফলে একবারে ২৫২ টাকা দাম বৃদ্ধি পরিবারগুলোর মাসিক ব্যয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
এদিকে বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ থাকায় ভোক্তাদের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হিসাব এক নজরে
প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে বৃদ্ধি: ২৫২ টাকা
পুরনো দাম: ১,৫৮৫ টাকা
নতুন দাম: ১,৮৩৭ টাকা
আনুমানিক দৈনিক অতিরিক্ত ভোক্তা ব্যয়: ৮৬–৯২ কোটি টাকা
আনুমানিক ৩০ দিনের অতিরিক্ত ব্যয়: ২,৫৯০–২,৭৬০ কোটি টাকা
আনুমানিক এক বছরের অতিরিক্ত ব্যয়: ৩১,৫০০–৩৩,৬০০ কোটি টাকা
সারকথা: ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ায় দেশের ভোক্তাদের ওপর বছরে আনুমানিক ৩১–৩৪ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এই পুরো অর্থ সরকারের রাজস্ব নয়—এটি মূলত ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয়ের আনুমানিক হিসাব।