
(৭ ঘন্টা আগে) ১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ৯:৪৩ অপরাহ্ন
১৯৮২ সালের ২৬ জুলাই ‘কুলি’ সিনেমার শুটিং সেটে বলিউড মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন। এই ঘটনাটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম এক অলৌকিক ও আবেগঘন অধ্যায় হিসেবে পরিচিত।
ভারতীয় গণমাধ্যমের সংবাদ অনুযায়ী, বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে "কুলি" ছবির মারপিটের একটি দৃশ্যের শুটিং চলছিল। দৃশ্যটিতে সহ-অভিনেতা পুনীত ইসারের একটি ঘুষি অমিতাভের পেটে এসে লাগে। ডামি বডি ব্যবহার না করে অমিতাভ নিজেই স্টান্টটি করছিলেন। ঘুষির আঘাতে অমিতাভের অন্ত্র ফেটে যায় এবং মারাত্মক রক্তক্ষরণ শুরু হয় তার।
মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে স্থানান্তরের পর তার বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার করা হয়। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি ঘটে যে, চিকিৎসকেরা তাকে কয়েক মিনিটের জন্য 'ক্লিনিক্যালি ডেড' ঘোষণা করেছিলেন।
২ আগস্ট চিকিৎসকেরা শেষ চেষ্টা হিসেবে সরাসরি তার হৃদপিণ্ডে অ্যাড্রেনালিন ইনজেকশন দেন। সেই মুহূর্তে তার স্ত্রী জয়া বচ্চন লক্ষ্য করেন অমিতাভের পায়ের আঙুল সামান্য নড়ে উঠেছে এবং তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, "দেখো, সে বেঁচে আছে।"
এই কারণে ২ আগস্ট তারিখটিকে অমিতাভ বচ্চনের ‘দ্বিতীয় জন্মদিন’ বা নবজন্ম হিসেবে উদযাপন করা হয়।
এই দুর্ঘটনা পুরো ভারতের মানুষকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। অমিতাভের ভক্তরা মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে তার জন্য প্রার্থনা শুরু করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও তাকে হাসপাতালে দেখতে যান।
জনগণের এই অভূতপূর্ব আবেগের কারণে পরিচালক মনমোহন দেশাই ‘কুলি’ সিনেমার মূল গল্প এবং সমাপ্তি বদলে দিতে বাধ্য হন। চিত্রনাট্য অনুযায়ী সিনেমার শেষ দৃশ্যে অমিতাভের চরিত্রের মারা যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু যে মানুষটি বাস্তব জীবনে মৃত্যুকে জয় করে ফিরে এসেছেন, পর্দায় তার মৃত্যু দর্শক মেনে নেবে না-এই ভেবে শেষ দৃশ্যে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়। ১৯৮৩ সালে মুক্তির পর কুলি সিনেমাটি সেই বছরের অন্যতম ব্লকবাস্টার হিট তকমা পায়।