
(১৪ ঘন্টা আগে) ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ২:৫৯ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের প্রখ্যাত পপ ও রক সংগীতশিল্পী, সুরকার এবং গীতিকার হ্যাপী আখন্দের জন্মদিন আজ। ১৯৬৩ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকার পাতলা খান লেনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
আধুনিক বাংলা ও পপ গানের ধারায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন হ্যাপী আখন্দ। বড় ভাই লাকী আখন্দের সাথে জুটি বেঁধে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান।
হ্যাপী আখন্দ'কে বাংলাদেশী সংগীতের বরপুত্র বলা হত। আর ডি বর্মণ,আব্বাসউদ্দীন, মান্না দে এবং সমর দাশের মতো সংগীতজ্ঞের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন তিনি।
মাত্র ১০ বছর বয়সে হ্যাপী আখন্দের হাতে গিটারের তাল ধরা দেয়। শুরুর দিকে হ্যাপী আখন্দ তার বড় ভাই লাকী আখন্দের সাথে বিভিন্ন কনসার্টে অংশ নিয়ে তবলা বাজাতেন
হ্যাপী আখন্দ 'উইন্ডি সাইড অব কেয়ার' নামে একটি ব্যান্ড গড়েছিলেন। সেখানে তিনি গিটার বাজানোর পাশাপাশি গানও গাইতেন। ১৯৭৫ সালে এসএম হেদায়েত এর লেখা
'আবার এলো যে সন্ধ্যা' গানটি সুর করেছিলেন লাকী আখন্দ। এই গানটির সংগীত আয়োজন করে হ্যাপী আখন্দ বাংলাদেশ টেলিভিশনে গেয়েছিলেন। লাকী আখন্দের সাথে হ্যাপী আখন্দের বয়সের ব্যবধান ১০ বছরের হলেও তারা ছিলেন বন্ধুর মতো।
হ্যাপী আখন্দের গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’, ‘কে বাঁশি বাজায় রে’, খোলা আকাশের মতো তোমাকে হৃদয় দিয়েছি, ‘নীল নীল শাড়ি পরে’, ‘পাহাড়ি ঝরনা’, ‘এই পৃথিবীর বুকে আসে যায়’, স্বাধীনতা তোমায় নিয়ে গান তো লিখেছি’।
তাঁর সংগীত আয়োজনে ফেরদৌস ওয়াহিদের গাওয়া ‘এমন একটা মা দে না’, প্রয়াত ফিরোজ সাঁইয়ের গাওয়া ‘ইশকুল খুইলাছে রে মাওলা’ গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
সংগীত পরিবারে জন্ম নেওয়ার ফলে বাবা এবং বড় ভাই লাকী আখন্দের কাছ থেকে পেয়েছেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীতজ্ঞান, আবেশী কণ্ঠস্বরের সঙ্গে সঙ্গে গিটার, পিয়ানো, তবলা সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সহজাত দক্ষতায় বিস্মিত করেছিল সেই সময়ের শ্রোতা ও শিল্পীদের।
হ্যাপীর সংগীত সবাইকে আনন্দ দিলেও তার নিজের জীবন কেটেছে অনেক অভিমান আর কষ্টে।
সুরের এই জাদুকর মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৮৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর অকালে মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলাদেশী সংগীতের বরপুত্র হ্যাপী আখন্দের জন্মদিনে বাংলা আওয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।