banglahour

কাপ্তাইয়ে পরিত্যক্ত জমিতে বিদ্যুতের স্বপ্ন, কয়েকবছরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ

সারাদেশ | মিল্টন বাহাদুর। রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।

(২ ঘন্টা আগে) ১৩ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ২:৩৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৮ অপরাহ্ন


নবায়নযোগ্য জ্বালানীর যে সম্ভাবনা তার অন্যতম উদাহারণ রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে উঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সূর্যের আলো থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রীডে। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পড়ে থাকা পাহাড়ের পরিত্যক্ত জমিতে সাত বছর আগে গড়ে উঠা এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত দেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে  প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট সোলার বিদ্যুৎ। যার বানিজ্যিক বাজারমূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।


উৎপাদন সক্ষমতা আরো বাড়াতে দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান। পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে গড়ে উঠা দেশের প্রথম অনগ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানীর অন্যতম পথ প্রদর্শক হয়ে উঠেছে।


কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর কাপ্তাই বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২২ একর জমির ১৯ একর জমিতে প্রায় ১শত ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালে নির্মাণ করা হয় ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কাপ্তাই সৌরবিদ্যু কেন্দ্র।


একসময়ের অব্যবহৃত পরিত্যক্ত জমিতেই এখন সারি সারি সৌর প্যানেল। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি শুধু পরিত্যক্ত অব্যবহৃত জমির ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সৃষ্টি করেছে সোলারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির নতুন উৎস। সূর্যের আলোর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ হওয়ার সাথে তা পরিনত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক সম্পদে।


কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, এটা অনেক লাভজনক একটি প্রকল্প। এটার জনবল এবং খরচ অনেক কম। এটার মেনটেনেন্স বলতে শুধুমাত্র পরিস্কার রাখতে হয়। এছাড়া তেমন কোন খরচ নাই। আবহাওয়া খারাপ থাকলে কিছুটা উৎপাদন কম হলেও উৎপাদন থেমে থাকেনা। পাহাড়ের পরিত্যক্ত এলাকায় এই প্রকল্পগুলোর প্রসার আরো বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক একটি পরিবর্তন আসবে।


কাপ্তাই কর্ণফুলী জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরো জানান, কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান কেন্দ্রের সঙ্গে আরো ১ মেগাওয়াট এবং নতুন ৭ দশমিক মেগাওয়াট প্রকল্পের কাজ চলছে। তিনি জানান, আমাদের ব্রিকফিল্ডে আরেকটি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াট সম্পন্ন পাওয়ার প্লান্ট করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এটার টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়াতে ১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণের পাশাপাশি ৭ দশমিক ৬ মেগাওয়াটের নতুন প্রকল্পের কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে।


তিনি আরো বলেন, সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে তেল, গ্যাস, কয়লার প্রয়োজন হয়না। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রচলিত জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস কিংবা কয়লার ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি করছে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি কোনো জ্বালানি পোড়াতে হয় না। ফলে একদিকে আমদানি নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জ্বালানী আমদানীর ব্যয় কমে বৈদেশিক মুদ্রার অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমান সক্ষমতার পাশাপাশি কাপ্তাইয়ে সৌরবিদ্যুতের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।  


পরিত্যক্ত জমিকে কাজে লাগিয়ে কাপ্তাইয়ের এই সফল সম্ভাবনাকে দেশেরে নবায়নযোগ্য জ্বালানী খাতে কাজে লাগানোর পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কৃষিভিত্তিক সোলার এবং সোলার পার্ক স্থাপনে আরো বিনিয়োগের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।


রাঙ্গামাটির কাপ্তাই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যান্য অনাবাদি ও উপযুক্ত জমিতেও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানো গেলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি তৈরি হতে পারে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের নতুন সম্ভাবনা। এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রযুক্তির ব্যবহার আর সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এমন উদ্যোগকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে জ্বালানি আমদানির চাপ কমিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়ে নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ।
দেশের একদশমাংশ অঞ্চল জুড়ে তিন পার্বত্য জেলার অবস্থান, এই অঞ্চলের পরিত্যক্ত বা অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে থাকা সুবিশাল পাহাড়ী অঞ্চলকে সরকারের পক্ষ থেকে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় এনে কাজে লাগানো গেলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল একটি চাহিদার যোগান দেয়া সম্ভব। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধোনে পাহাড়ের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন এখন সরকারী উদ্যোগ।
 

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল