
(৬ ঘন্টা আগে) ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ১০:৫২ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নবগঠিত ২০ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে সরকারি চাকরিজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কমিটির তালিকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কলেজের প্রভাষক ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তার নাম থাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরকারি কর্মচারীদের অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে পদ গ্রহণের বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
জেলা বিএনপির ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের চিঠিতে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির ২০ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের তথ্য রয়েছে। কমিটিতে মো. শামসুজ্জামান হাঁসুকে আহ্বায়ক, মো. লোকমান হোসেন সরকারকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, মো. আরাবুর রহমান ও মো. আরিফুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আব্দুল মান্নান মুকুলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক শিক্ষক ও প্রভাষকের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাঁসু, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুল, কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন এবং সরকারি সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের প্রভাষক শাহিনুর রহমান শাহিন। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার কর্মকর্তা তহিদুল হকের নামও কমিটিতে রয়েছে। তালিকায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫ বিধির উপবিধি (১)-এ সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিতে থেকে দলীয় কমিটিতে পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরির ধরন ও তাঁদের ওপর প্রযোজ্য বিধান গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে মূল প্রশ্ন শুধু কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের সমর্থক কি না, তা নয়; বরং সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে দলীয় কমিটির পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আচরণবিধি অনুসরণ হয়নি। এ ঘটনায় সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও প্রভাষক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি ও আচরণবিধি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।
জেলা বিএনপির চিঠিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে জেলা কমিটির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ফলে আংশিক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় ও তাঁদের দলীয় পদ গ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শামসুজ্জামান হাঁসু বলেন, "আমি নির্বাচন করব, এজন্য চাকুরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে সেই অব্যাহতি পত্র দেয়া আছে।"
সরকারি চাকুরিজীবীরা রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নে তি বলেন, "আমরা সবাই ভোট করব, এজন্য অব্যাহতি নিয়েছি। তাছাড়া একটি মহল আমাদের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।"
সরকারি চাকুরীজীবিরা রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন কিনা-এমন প্রশ্নে ফুলবাড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাঃ আব্দুল লতিফ বলেন-আপনারাই এর উত্তর ভালো জানেন। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শামসুজ্জামান হাঁসু এবং সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান মুকুল চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এমন প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, "তাদের কাছ থেকে কোন প্রকার অব্যাহতি পত্র পাইনি। যদি কেউ বলে থাকে সেটা মিথ্যা।"
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, "সরকারি বিধি অনুযায়ী চাকুরীজীবিদের রাজনীতি করার সুযোগ যদি না থাকে সেক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।"