
(৫ ঘন্টা আগে) ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে যখন হাজার মাইল দূরের বাংলাদেশ স্মৃতির পাতায় উঁকি দেয়, তখন শীতের পিঠার মিষ্টি ঘ্রাণ যেন মুহূর্তেই ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের উঠোনে, মায়ের হাতের পিঠার স্বাদে আর বাংলার চিরচেনা শীতের আমেজে। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ঠিক তেমনই এক আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশি শীতকালীন পিঠামেলা ও পিঠা প্রদর্শনী।
ফ্রান্সের সামাজিক সংগঠন বন্ধন পরিবারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ পিঠামেলায় মিলেছিল বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভালোবাসা আর প্রবাসীদের আত্মিক বন্ধনের এক অপূর্ব সম্মিলন। পিঠার বাহারি আয়োজন আর উৎসবমুখর পরিবেশে প্যারিসের বুকে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ ধরা দিয়েছিল।
মেলায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আনন্দমুখর পরিবেশ। নানা শ্রেণি-পেশা ও বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। তবে এ মেলার অন্যতম সুন্দর দিক ছিল শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে অনেক মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে হাজির হন। তাঁদের কাছে পিঠামেলা ছিল শুধু খাবারের উৎসব নয়, বরং সন্তানদের হৃদয়ে বাংলার সংস্কৃতি ও শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস।
বন্ধন পরিবারের সভাপতি শিউলি গিয়াসের সভাপতিত্বে পিঠামেলার উদ্বোধনের আগে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। সাংবাদিক নয়ন মামুনের সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন্ধন পরিবারের সহসভাপতি আব্দুল মালেক।
এ সময় বক্তব্য দেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি আহসানুল হক বুলু। আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফরহাদ মিয়া, মাহবুব আহমেদ, অজয় দাস , ঢাকা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল সিকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বক্তারা প্রবাসে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালন, নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় কৃষ্টি তুলে ধরা এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীতের সুরে সুরে মেলায় ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের আবেশ। গান পরিবেশন করেন শিল্পী সুমা দাস ,নীলা দাস ,কথা সাহা ,বরুণ বড়ুয়া, ইমতিয়াজ রনিসহ প্যারিসের স্থানীয় শিল্পীরা। তাঁদের সংগীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে এবং পুরো আয়োজনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য।
সব মিলিয়ে বন্ধন পরিবারের এ পিঠামেলা ছিল প্রবাসের মাটিতে বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন করে আবিষ্কারের এক সুন্দর উপলক্ষ। পিঠার স্বাদে, গানের সুরে আর মানুষের আন্তরিক মিলনমেলায় ফুটে ওঠে বাংলাদেশের চিরচেনা সংস্কৃতির সৌন্দর্য।
দেশ থেকে দূরে থেকেও যে দেশের প্রতি ভালোবাসা, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি টান কখনো ম্লান হয় না, প্যারিসের এ পিঠামেলা যেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বাংলার পিঠার ঘ্রাণে আর মানুষের ভালোবাসায় দিনটি হয়ে ওঠে স্মৃতিময়—যেখানে প্রবাসের বুকে বারবার ফিরে আসে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।