
(২ ঘন্টা আগে) ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০:০৪ অপরাহ্ন
ভৈরবে মাদক নিয়ে মাদক কারবারিদের দ্বন্দ্বের জেরে আটককৃত মাদক কারবারি সোহেল মিয়া ও ফয়সাল মিয়া নামে দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করে শিকল দিয়ে বেধে রাখেন হাকিম নামে আরেক মাদক কারবারি। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ( মেম্বার) মানিক মিয়া লোকজন নিয়ে হাকিমের বাড়ি থেকে আটককৃতদের কে ছাড়িয়ে নেয়ার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা - সমালোচনার ঝড় বইছে।
১৪ অক্টোবর, বুধবার আনুমানিক বিকেলে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এঘটনা ঘটে। এনিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্ষীরা জানান, শ্রীনগর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে সোহেল মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে হাকিম মিয়ার টাকা-পয়সা ও ইয়াবা সরবরাহ নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকেলে ৫ হাজার ইয়াবা সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এসময় সোহেল মিয়ার আপন ভাই ফয়সাল আরও একজনকে নিয়ে উপস্থিত হলে হাকিমের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সোহেল ছুরি দিয়ে হাকিমকে আঘাত করেন। পরে হাকিম ঘর থেকে লাঠি এনে সোহেলকে মারধর করে দুই ভাইকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। এঘটনায় মাদক কারবারি সোহেল ও হাকিম মিয়া দুজন আহত হন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল মিয়া বিষয়টি ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান। পরে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মাদক কারবারি সোহেল ও ফয়সালকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। হাকিম মিয়ার অভিযোগ, শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মানিক মিয়া লোকজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার মিয়া বলেন, প্রথমে তাঁদের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ ছিল। ৫ হাজার ইয়াবা হাকিমকে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে ওসমান নামে অন্য এক মাদক কারবারিকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এ নিয়ে হাকিম ও সোহেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহেল ছুরি দিয়ে হাকিমকে আঘাত করেন। পরে হাকিম সোহেল ও ফয়সালকে বেঁধে রাখেন।
তিনি আরও বলেন, বুলবুল মিয়া থানার ওসিকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ইউপি সদস্য মানিক মিয়া লোকজন নিয়ে দুইজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তাঁর দাবি, ঘটনাটি অনেকেই দেখেছেন। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
হাকিম মিয়া বলেন, সোহেল প্রথমে তাঁর মা-বাবাকে নিয়ে গালিগালাজ করেন। পরে টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা কার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানতে তিনি সোহেলকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তার ভাই ফয়সার একজনকে নিয়ে আসলে সোহেল তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। পরে তিনি ঘর থেকে লাঠি এনে সোহেলকে মারধর করে দুইভাইকে শিকল দিয়ে তালা দেন।
তাঁর দাবি, পুলিশের সামনে টেকনাফের এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানতে পারেন, ফয়সালের কাছে ৫ হাজার ইয়াবা পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও আছে। তাই আমি সোহেল ও ফয়সালকে আটক করেছিলাম। তারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাদক কেনাবেচার বিষয়ে আমার কাছে প্রমাণও আছে। তিনি বলেন, বুলবুল থানার ওসিকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ আসার আগেই মানিক মেম্বার লোকজন নিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পুলিশ এসে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইয়াবাগুলো কার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে, তা জানা যেত। পুলিশের সামনে টেকনাফের লোককে আমি ফোন করে ৫ হাজার ইয়াবা ফয়সালকে সরবরাহের বিষয়টি লাউড স্পিকারে শোনাতে চাইলে পুলিশ কল কেটে দেয়ার জন্য বারণ করেন।
তবে, হাকিম মিয়ার এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দুই মাদক কারবারিকে ছাড়িয়ে নেয়ার বিষয়ে
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মানিক মিয়া বলেন, যদি ইয়াবার বিষয়ে তারা বলে থাকে, সেটা তো আমি জানিনা। বুলবুল কন্টাক্ট করছিলো ফয়সাল থানাকে কাজ দিবে। ফয়সাল কাজ দিতে না পারায় বুলবুল হাকিমকে বলছে তারা দুইভাইয়ের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে। পরে বুলবুল প্লান করে হাকিমের বাড়িতে নিয়ে যায় সোহেলকে। তখন বুলবুল এসে সোহেলকে শিকল দিয়ে তালা মারে এবং টর্চার করেছে।
তিনি বলেন, আমি এলাকার মেম্বার হিসেবে সোহেলর বাড়ির লোকজন আমার কাছে এসেছে। পরে আমি গিয়ে হাকিমের কাছে জানতে চাই কেন তাদের বেধে রাখা হয়েছে। তখন হাকিম জানান টাকা পয়সার লেনদেনের কথা। তখন আমি বলি পাঁচজন নিয়ে বসে এসমস্যা সমাধান করে দিবো। একথা বলে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসি। আগে পরে কি হয়েছে, বা ইয়াবা নিয়ে কিছু আছে কিনা সেটা আমি জানিনা। তবে, তিনি স্বীকার করেছেন, সোহেল ও ফয়সাল দুইভাই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী।
ভৈরব থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ৫ হাজার ইয়াবা নিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখার বিষয়টি ওসি স্যারকে জানিয়েছিলেন বুলবুল মিয়া। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেল ও ফয়সালকে পাননি।
তিনি বলেন, ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ হয়েছে। পরে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে বলে জানতে পারি। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর হাকিম আমাকে ৫ হাজার পিস ইয়াবার কথা বলেননি। তিনি শুধু টাকা পাওয়ার কথা বলেছেন। তাছাড়া, বুলবুলও তখন ইয়াবার বিষয়ে কিছু বলেননি আমাকে।