
(৭ ঘন্টা আগে) ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ৯:৪১ অপরাহ্ন
শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন কোনোভাবেই নিজেদের অনিরাপদ মনে না করেন এবং শতভাগ নিরাপদ বোধ করেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিসর্জন সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে সম্পন্ন করতে সবাইকে বলা হয়েছে।”
রবিবার দুপুরে ঢাকার ধামরাইয়ের মাধববাড়ি, যাত্রাবাড়ীসহ পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম ও পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমাদের সম্মানিত মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার সাহেব আমাদের হিন্দুধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন শারদীয় দুর্গাপূজা নিজ চোখে দেখতে এসেছেন, তাঁদের খোঁজখবর নিতে এসেছেন। এ জন্য ধামরাইবাসী, অর্থাৎ ঢাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”
তমিজ উদ্দিন আরও বলেন, “অতীতে কখনো দেখেছেন, এই মন্দিরের পুরোহিতদের জন্য কোনো সরকার কোনো কালে টাকা-পয়সা দিয়েছেন কি না, সম্মান দিয়েছেন কি না? আপনারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে জানেন, আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তিনি কিন্তু এই প্রণোদনা শুরু করেছেন। এটা কিন্তু ছোট কোনো বিষয় নয়। আপনারা জানেন কি না জানি না, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে আমাদের সঙ্গে বসার সুযোগ দেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী এভাবে মাঝেমধ্যে সংসদ সদস্যদের নিয়ে বসেন না। তিনি কিন্তু আমাদের নিয়ে বসেন, সারা দেশের চিত্র আমাদের কাছ থেকে জানতে চান।”
তিনি আরও বলেন, “তার সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা ১১ তারিখে জেনেছি, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য তাঁর কাছে ৪ কোটি টাকা চেয়েছিল। তিনি ৬ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। তো, এটা কি আপনাদের খবরে আসা উচিত নয়? এটা দয়া করে প্রচার করবেন। এখানেই শেষ নয়, আপনারা আরও পাবেন।”
নিরাপত্তায় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা
ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিয়া বলেন, “শারদীয় দুর্গোৎসব সফল ও উৎসবমুখর করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মাঠে তৎপর রয়েছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতিটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার সভা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “কোথাও গুজবের সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপের পক্ষ থেকে দ্রুত বিবৃতি দিয়ে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে গুজব ছড়িয়ে না পড়ে। দুর্গোৎসব নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনো অশুভ শক্তি যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা দেশের ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
মো. মনিরুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা সবার আগে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন কোনোভাবেই নিজেদের অনিরাপদ মনে না করেন এবং শতভাগ নিরাপদ বোধ করেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
বিসর্জনের সময় নিয়ে তিনি বলেন, “বিসর্জন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সম্পন্ন করতে সবাইকে বলা হয়েছে। কারণ, নদীতে বিসর্জন দিতে যাওয়ার সময় নৌকায় ঠেলাঠেলিসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া বিসর্জনের দিন মাদক সেবন ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ রোধেও তৎপরতা রয়েছে। মাদকের অপব্যবহার রোধে আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম চলছে।”
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ডিআইজির
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এই উৎসবে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন। এ উৎসবকে ঘিরে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের পিকেট, মোবাইল টিম ও কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) রয়েছে। পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তার জন্য পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি। হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁদের প্রাণের উৎসব পালন করছেন।”
ডিআইজি আরও বলেন, “অনেক সময় গুজব সৃষ্টি করে উৎসবের নিরাপত্তা ও অন্যান্য কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানো হয়। এ জন্য গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং দায়িত্ব পালন করবে।”
তিনি বলেন, “মা দুর্গার আবির্ভাবের উদ্দেশ্য অসুর বধ। এই বিষয়টি অন্তরে ধারণ করে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য অশুভ শক্তির যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিহত করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ডিআইজি বলেন, “আইজিপির কার্যালয়ে এ বিষয়ে সভা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে এবং জেলায় এসপি, ডিসি, ইউএনও ও ওসিরা সভায় অংশ নিয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারাও নিজস্ব টিম নিয়ে কাজ করছেন। ফলে নিরাপত্তার কোনো অভাব তিনি দেখছেন না।” হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গেও কথা বললে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের অভাবের বিষয়টি জানা যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।