
(২ সপ্তাহ আগে) ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ৫:০০ অপরাহ্ন
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহা নবমীর পুণ্যলগ্নে পাহাড়ের বুকে ফুটে উঠলো ধর্মীয় মেলবন্ধন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য রূপ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের উৎসবে রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার গীতাশ্রম মন্দিরে দেবী দুর্গার কৃপা ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে সমবেত হন রাঙ্গামাাটিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গুর্খা সম্প্রদায়ের মানুষেরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ধূপ-দীপ, কাঁসরের ধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে এক ভাবগম্ভীর ও আধ্যাত্মিক আবহে তারা দেবী চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেন।
গুর্খা সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা, বিশিষ্ট সংগীত শিক্ষক এবং ‘সুর নিকেতন’ সংগীতালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মনোজ বাহাদুর গুর্খার নেতৃত্বে এই বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন সম্প্রদায়ের নানা বয়সের পূণ্যার্থীরা। ভক্তিসিক্ত অন্তরে তারা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং মর্ত্যলোকে শান্তি ও মঙ্গলের প্রার্থনা জানান।
ধর্মীয় অনুভূতির এই শুভক্ষণে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গুর্খা সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সংগীত শিক্ষক পংকজ বাহাদুর গুর্খা, তাঁর সহধর্মিনী অনিমা মানজী, মিল্টন বাহাদুর গুর্খা, তাঁর সহধর্মিনী অনুসূয়া মানজি, পংকজ বাহাদুর গুর্খার কনিষ্ঠ কন্যা তিন্নি মানজীসহ সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গীতাশ্রম মন্দিরের পুরোহিত পুলক চক্রবর্তীর পরিচালনায় শাস্ত্রীয় আচার ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূণ্যার্থীরা অঞ্জলি গ্রহণ করেন। এই ভক্তিঘন মুহূর্তে গীতাশ্রম মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ গুর্খা সম্প্রদায়কে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মন্দিরের সভাপতি শংকর হোড়, সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক নন্দন দেবনাথসহ মন্দির পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
গীতাশ্রম মন্দিরের সার্বিক সাজসজ্জা ও আবহ নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গুর্খা সম্প্রদায়ের নেতা মনোজ বাহাদুর গুর্খা বলেন, "এবারের গীতাশ্রম মন্দিরে প্রতিটি প্রতিমা ও মণ্ডপে যেভাবে সমতল ও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পাশাপাশি গুর্খা সম্প্রদায়ের চিত্রায়ন আমাদের জন্য এক পরম গর্বের বিষয়। এটি পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করবে।" তিনি এই চমৎকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজনের জন্য গীতাশ্রম মন্দির পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকল নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
পাহাড় ও সমতলের নানাবিধ সংস্কৃতির এই সংমিশ্রণ ও আত্মিক মেলবন্ধন শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা, যা পাহাড়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও পারস্পরিক ভালোবাসার চিরন্তন বার্তাই বহন করে।