
(৪ ঘন্টা আগে) ২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন
ঢাকার ধামরাইয়ে দুর্গাপূজা পরিদর্শন করে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেছেন, “দুর্গাপূজার অন্যতম বিশেষ দিক হলো, এ উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে। শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষই নন, অন্য ধর্মের অনুসারীরাও এ উৎসবের আনন্দে অংশ নেন।”
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ধামরাইয়ের একটি দুর্গাপূজামণ্ডপ ও ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্পের কর্মশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সারাহ কুক।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য দুর্গাপূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। ধামরাইয়ে এসে পূজা উদ্যাপন সরাসরি দেখতে পেরে আমরা আনন্দিত। এর আগে অনেকবার ধামরাইয়ে এলেও দুর্গাপূজার সময় কখনো আসা হয়নি।”
বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে সারাহ কুক বলেন, “বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করেন। এটি বাংলাদেশের একটি বিশেষ দিক। দুর্গাপূজায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চিত্র আমাকে মুগ্ধ করেছে।”
দুর্গাপূজা পরিদর্শনের পাশাপাশি ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্পের কর্মশালাও ঘুরে দেখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। এ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ধাতব কারুশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ শিল্পের ইতিহাস পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। ধামরাইয়ের কর্মশালায় শত শত বছর ধরে এসব শিল্পসামগ্রী তৈরি হয়ে আসছে।”
ধামরাইয়ের কারুশিল্পের প্রতি নিজেদের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন সারাহ কুক। তিনি বলেন, “এর আগে আমরা বেশ কয়েকবার ধামরাইয়ে এসেছি। এখান থেকে বিভিন্ন কারুশিল্পসামগ্রী কিনেছি। সেসব সামগ্রী বর্তমানে ঢাকায় আমাদের বাসভবনে রয়েছে।”
সারাহ কুক বলেন, “ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়ে আমরা আবারও আনন্দিত।”
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের সমৃদ্ধির জন্য পরিচিত ধামরাইয়ে দুর্গাপূজা ও ধাতব কারুশিল্প—দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের প্রকাশ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
এ সময় হাই কমিশনারের সঙ্গে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল মামুন ও ধামরাই পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।