
(২ ঘন্টা আগে) ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ১:১৬ অপরাহ্ন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নিখোঁজের দুই দিন পর আলিম উদ্দিন সরকার (৭৩) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের গোস্তারা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত আলিম উদ্দিন সরকার একই উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম বনগ্রাম এলাকার মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে।
পরিবারের দাবি, গত ১৯ অক্টোবর থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ২১ অক্টোবর একটি মাছের খামারের পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহের কথা জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহতের ছেলে গোলাম মোস্তফার অভিযোগ, তাঁর বাবার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দুলদিয়া ইউনিয়নের কইতরিপাড়া গ্রামের আজহারুল ইসলামের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্রে আজহারুলের সঙ্গে তাঁর বাবার আর্থিক লেনদেন হয়। টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ১৯ অক্টোবর তাঁর বাবাকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ করছেন তাঁরা। এরপর থেকে তাঁর বাবা নিখোঁজ ছিলেন।
নিহতের স্বজন ইদ্রিস আলী বাচ্চু বলেন, আলিম উদ্দিনের খোঁজ করতে গিয়ে তাঁরা আজহারুলের বাড়িতে যান। সেখানে আজহারুল তাঁর কাছে টাকা পাওনার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে যে এলাকায় আলিম উদ্দিনের মরদেহ পাওয়া যায়, সে বিষয়ে আজহারুলের কথার সঙ্গে ঘটনার মিল রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন এই স্বজন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
নিহতের ভাতিজা মোস্তফা কামালও ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে তাঁর চাচার জুতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আজহারুল ইসলাম বলেন, আলিম উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর প্রায় ৪০ বছরের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন আলিম উদ্দিন তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। পরে তাঁকে খুঁজতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আজহারুল।
আজহারুল বলেন, তাঁর কাছে আলিম উদ্দিন সরকারের দুই লাখ টাকা পাওনা ছিল এবং সেই অর্থের বিপরীতে ধান দেওয়ার কথা ছিল। (২২ অক্টোবর) নিহতের পরিবারের কাছে লাভসহ আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নূরুল আমিন মাসুদ বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, আলিম উদ্দিনের কাছে আজহারুলের দুই লাখ টাকা পাওনা ছিল এবং ৫০ মণ ধান দেওয়ার কথাও ছিল। তাঁর দাবি, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মতামত কলাম পড়ুন
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে মরদেহে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যুর মামলা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে হত্যা মামলা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।