
(১ ঘন্টা আগে) ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ১:১৮ অপরাহ্ন
জমি দখল, দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিকাশে অর্থ লেনদেনের একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওসির ব্যক্তিগত নম্বরে পাঠানো ৩০ হাজার টাকার এই লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ভৈরবের সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার নম্বর থেকে ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭১২৬৩৭৪১৮-এ ৩০ হাজার টাকা সেন্ড মানি করা হয়। উক্ত লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি (TrxID) DJ32CPB40Q।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী মাসুদ রানা বাবু গত ২২ অক্টোবর তাঁর ফেসবুক আইডিতে লেখেন, "ভৈরবে দোকান ও বাড়ি ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় বিকাশে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেন ওসি মাহবুবুর রহমান।" উক্ত পোস্টের সঙ্গে তিনি ওসির নম্বরে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশট সংযুক্ত করেন। পরবর্তীতে স্ক্রিনশটটি ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মুঠোফোনে জানান, আমার এই নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা রয়েছে, তবে কোনো লেনদেন করা হয়নি। গত ৩ অক্টোবর আমার নম্বরে কে বা কারা টাকা পাঠিয়েছে, তা আমি এখনো দেখিনি। আমার বিরুদ্ধে আনীত ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু মুছা শেখ বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিকাশ কল সেন্টার থেকে স্টেটমেন্ট এনে যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্তে ওসির নম্বরে ঘুষ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় মনির কন্ট্রাক্টরের দখলীয় বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখলের চেষ্টা চালায় প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার লোকজন। এ সময় তাঁরা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালান বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমান ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন ভাঙচুরের সময় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয় তারা। পুলিশ এসেও নীরব ভূমিকা পালন করে রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে থাকে।
তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, পুলিশ যেন দ্রুত ঘটনাস্থলে না আসে এবং মামলা না নেয়, সে জন্য মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজন ওসির সঙ্গে চুক্তি করেন এবং বিকেলে ওসির বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তী সময়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ওসির কাছে ধন্না দিয়েও বিচার না পেয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন।