
(১ ঘন্টা আগে) ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ৩:০১ অপরাহ্ন
পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এখন আনন্দ ও ভক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আত্মশুদ্ধি, পাপমোচন, মৈত্রীভাব এবং জগতের সকল প্রাণীর সুখ-শান্তির বার্তা নিয়ে রাঙ্গামাটিতে বর্ণিল আমেজে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’।
আগামী ২৫ অক্টোবর (রবিবার) প্রবারণা পূর্ণিমার মূল আনুষ্ঠানিকতা উদযাপিত হওয়ার কথা থাকলেও, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকেই পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে সূচনা ঘটেছে নানা ধর্মীয় আয়োজনের।
উৎসবের প্রথম দিন সকালে রাঙ্গামাটি সদরের বালুখালী এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘তপোবন অরণ্য কুটিরে’ ঢল নামে হাজারো বৌদ্ধ নর-নারীর। পরনে শুভ্র সাদা পোশাক, চোখে-মুখে অহিংসা ও ভক্তির দ্যুতি-পুণ্যার্থীদের সমবেত প্রার্থনা আর গুঞ্জরিত ‘সাধু, সাধু, সাধু’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কুটির প্রাঙ্গণ। ধর্মীয় এ আয়োজনে ভীতি ও কলুষতামুক্ত পৃথিবীর কামনায় অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চশীল গ্রহণ, মহাসংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান এবং বুদ্ধ প্রতিবিম্ব দানসহ নানাবিধ পুণ্যকর্ম।
অনুষ্ঠানে সংঘ প্রধান হিসেবে উপস্থিত থেকে পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল প্রদান ও দেশনা প্রদান করেন শ্রীমৎ বনভান্তের শিষ্য সংঘের প্রধান এবং ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান পরম পূজনীয় ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাথের। তিনি তাঁর দেশনায় জগতের সকল জীবের কল্যাণ এবং মানুষের মাঝে অহিংসা ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
ধর্মীয় এই মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এমপি। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা উপস্থিত থেকে পুণ্যার্থীদের শুভকামনা জানান।
পাহাড়ের দূর-দূরান্তের জনপদ থেকে আসা অগণিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে বিরাজ করে এক ভাবগম্ভীর ও আত্মিক পরিবেশ। দেশ ও জাতির মঙ্গল, অগ্রগতি এবং শান্তির কামনায় সকলে সমবেত ভাবনায় মগ্ন হন।
উল্লেখ্য, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা দীর্ঘ তিন মাসের প্রথাগত কঠোর ‘বর্ষাবাস’ (বিশেষ উপাসনা ও সাধনা) সমাপ্তি শেষে এখন মানবকল্যাণে ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করবেন। প্রবারণা পূর্ণিমার এই শুভ তিথি শেষ হওয়ার পরদিনই অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর থেকে পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে সূচিত হবে বৌদ্ধদের বহুল কাঙ্খিত ও পরম পবিত্র মাসব্যাপী ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব। সব মিলিয়ে, প্রবারণা পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে শুভ্রতা, শ্রদ্ধা আর উৎসবের অপার আবহে এখন মুখরিত পুরো পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি।