
(১ ঘন্টা আগে) ২৪ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ৬:৪৩ অপরাহ্ন
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া এমপি বলেছেন, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের সময় পাহাড়ের পরিস্থিতি ছিল অশান্ত, সে সময় পাহাড়ের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এন লারমা ও চারুবিকাশ চাকমারা পার্বত্য এলাকার সংস্কৃতি রক্ষাসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে গেলেও শেখ মুজিব তাদের দাবি পুরণ না করে উল্টো রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত সমাবেশে হুমকি প্রদান করেছিলেন। যা পাহাড়ের মানুষ মনে রেখেছে।
তিনি বলেন, শেখ মুজিব পরবর্তী দেশের দায়িত্ব নিয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাহাড়ের অশান্ত পরিস্থিতিকে শান্ত করতে কাজ শুরু করেছিলেন।
তিনি দেশের দায়িত্ব নেয়ার পর বিধ্বস্থ বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পুর্ণ ভাবে গড়ে তোলার জন্য সারাদেশ চষে বেরিয়েছিলেন। সারাদেশের মতো পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধানে তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে পার্বত্য এলাকায় যেসব নেতা বা গুনীজন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানসহ উন্নয়নে কাজ করেছিলেন, তাদের মধ্যে প্রয়াত সুবিমল দেওয়ান ছিলেন অন্যতম। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। তিনি বলেন, পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে সব মতভেদ ভুলে সমন্বিতভাবে একাত্মতা ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রামে এগিয়ে নিতে হবে।
প্রয়াত রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড মাইনী হলরুমে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোরদের নিয়ে রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া এমপি এসব কথা বলেন।
সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মৈত্রী চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী ও সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা দীপেন দেওয়ান এমপি।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, এসপিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, সদর জোন কমান্ডার মো: একরামুল রাহাত, পিএসসি, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত সুবিমল দেওয়ানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে, প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক সনৎ কুমার বড়ুয়া।
আব্দুল ওয়াদুদ ভুইয়া এমপি বলেন, সম্প্রতি সাজেক নিয়ে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা সকলের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পার্বক্য চট্টগ্রাম হচ্ছে ট্যুরিস্ট জোন, এখানে পর্যটন ব্যবসা বন্ধ থাকলে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আলোচনার মাধ্যমে সাজেক সমস্যা সমাধান করতে সন্তু লারম্, ইউপিডিএফ নেতৃবৃন্দসহ প্রশাসনকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।
আলোচনা সভা শেষে কৃতি ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাকে সম্মাননা স্মারক এবং প্রয়াত সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমদকে মরনোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পরে সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত শিশু-কিশোরদের নিয়ে রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।