
(১ ঘন্টা আগে) ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ২:৩৮ অপরাহ্ন
সমগ্র জীবজগতের সুখ, শান্তি ও বিশ্বমৈত্রীর আকুল প্রার্থনা এবং নানা বর্ণাঢ্য ধর্মীয় আয়োজনের মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা (আশ্বিনী) পূর্ণিমা মহাসমারোহে পালিত হয়েছে।
বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী ত্রৈমাসিক বর্ষাবাস ব্রত পালন শেষে এ শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠিত হয়। অশুভ, অন্যায় ও সাম্প্রদায়িকতাকে দূর করে সম্প্রীতির নতুন দিন গড়ার প্রত্যয়ে সকাল থেকেই রাঙ্গামাটির ঐতিহাসিক রাজ বন বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে সব বয়সের পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে
দিনটি উপলক্ষে রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই রাজ বন বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, হাজার প্রদীপ দান এবং চিমিতং পূজাসহ নানা পুণ্যময় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকারা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন।
এসময় ধর্মীয় দেশনা প্রদানকালে রাঙ্গামাটি রাজ বন বিহারের অধ্যক্ষ হিসেবে শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো বলেন, "প্রবারণা মানেই হলো আত্মপর্যালোচনা, ত্যাগ এবং ক্ষমা প্রার্থনা। আমাদের ভেতর থেকে অশুভ চিন্তা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাব দূর করে প্রজ্ঞার আলো জ্বালাতে হবে। সকল জীবের মঙ্গল এবং বিশ্বে যেন শান্তি বজায় থাকে—আজকের এই পরম পবিত্র দিনে বুদ্ধের চরণে আমাদের এটাই বিনীত প্রার্থনা।"
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হাজার হাজার পুণ্যার্থীর মাঝে দেখা যায় বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা। রাজ বন বিহারে প্রার্থনায় আসা স্থানীয় এক পুণ্যার্থী তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন "তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে প্রবারণা পূর্ণিমা আমাদের জীবনে এক পরম আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। আমরা আজ মন্দিরে এসে বিশ্বশান্তির জন্য প্রার্থনা করেছি। আমাদের পাহাড়ে যেন সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করতে পারে, পরম বুদ্ধের কাছে এটাই আমাদের চাওয়া।"
উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গ্রহণ করা হয় কঠোর পদক্ষেপ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় জেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিহারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন।
বিকেলে আকাশে রঙিন ফানুস ওড়ানোর মনোমুগ্ধকর আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপনের পরদিন থেকেই পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে মাসব্যাপী পুণ্যময় উৎসব 'শুভ কঠিন চীবর দান' শুরু হবে।