
(৯ ঘন্টা আগে) ২৮ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ৭:৪৯ অপরাহ্ন
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক আদালতে
হত্যা ও মাদকদ্রব্য মামলার রায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং
অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ বিচারক। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে
১১টায় শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এবং জেলা ও দায়রা জজ মোক্তাদির আলম
এবং বেলা আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে পরিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শিমুল
কুমার বিশ্বাস পৃথকভাবে রায় ঘোষণা করেন। আদেশে দণ্ডপাওয়া হত্যা মামলার
আসামীরা হলো আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের সোলায়মানের ছেলে ইসমাইল
হোসেন ও একই গ্রামের মরহুম আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। তাদের
যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের
আদেশ দেয়া হয়। আর মাদকদ্রব্য মামলার দণ্ডপাওয়া আসামী হলো আলমডাঙ্গা
উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে শফিউল্লাহ (৬০)। তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসে কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরস অ্যাডভোকেট আ.স.ম.
আব্দুর রউফ জানান, ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার
শালিকা গ্রামের মরহুম খাজের আলী মন্ডলের ছেলে জাহাবক্স মন্ডল তার ছেলে
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার আরজীতে বলা হয়, তার ২৮ বয়সী ছেলে ঝন্টু পানের ব্যবসা করতো। শালিকা গ্রামের সোলায়মানের ছেলে ইসমাইল (৩৫) ও আরো ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ২০০৯
সালের ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঝন্টুর মোবাইল ফোন নম্বরে কল
দিয়ে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর দিন দুপুর পর্যন্ত ঝন্টু বাড়িতে ফিরে
না আসলে তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনে কল
দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল বিকালে শালিকা
গ্রামে ঘিনালা মাঠের একটি ধান ক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে গলায়
গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হ ত্যা করা হয়।
এ মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর আদালতে
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমানে
সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আসামী দু’জনকে যাবজ্জীবন ও অর্থদণ্ডে
দণ্ডিত করা হয়।
এদিকে আদালত সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের
মামলায় শফিউল্লাহ (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন
আদালতের বিচারক। সে কালিদাসপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার জালাল উদ্দিনের ছেলে।
তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ মাসে কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক।
একইসঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম
কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত শফিউল্লাহ আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত
জালাল উদ্দীনের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান
চালিয়ে তার বসত ঘরের শোকেসের মধ্যে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন
উদ্ধার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রতিটি অ্যাম্পুলে ২
মিলিলিটার করে মোট ৪৪ মিলিলিটার ইনজেকশনের আনুমানিক মূল্য ছিল ৬ হাজার
৬০০ টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তার
বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ৪ জন
সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমান সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালতের বিচারক
তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম
রেজা ডালিম বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মাদকের বিস্তার রোধে এ
রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।