
(২ ঘন্টা আগে) ৩০ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ১১:২৩ পূর্বাহ্ন
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় সড়কের পাশে একটি খেতের মধ্যে ফেলে রাখা ৩৫ বস্তা ঘোড়ার চামড়া, হাড় ও ভুঁড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বাঁশাটি-জগন্নাথবাড়ি বাইপাস সড়কের পাশে বগরা বিলে এসব বস্তা দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। রাতের আঁধারে কে বা কারা এসব বস্তা সেখানে ফেলে গেছে, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে সড়কের পাশের খেতের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে অনেকগুলো বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বস্তাগুলো খুলে দেখে, সেগুলোর মধ্যে ঘোড়ার চামড়া, হাড় ও ভুঁড়ি রয়েছে। মাংস ছাড়ানো এসব দেহাবশেষ কোথা থেকে আনা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তামিম মিয়া (৩২) বলেন, ভোর ছয়টার দিকে হাঁটতে বের হয়ে এখানে ৩০ থেকে ৩৫টি বস্তা পড়ে থাকতে দেখি। পরে থানায় ফোন করে বিষয়টি জানাই। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ আসে। এরপর সবার সামনে বস্তাগুলো খুলে দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে ঘোড়ার চামড়া, হাড় ও ভুঁড়ি রয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবেশদূষণের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান (৪৫)। তিনি বলেন, এসব বর্জ্য এখানে পড়ে থাকলে পরিবেশ নষ্ট হবে। নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে সেগুলো মাটিচাপা দেওয়া উচিত। তবে এসব কোথা থেকে, কীভাবে এখানে আনা হলো, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, আমাদের এলাকায় ঘোড়া নেই বললেই চলে। আমার ধারণা, অন্য কোনো এলাকা থেকে এসব আনা হয়েছে। এই রাস্তাটি কিছুটা নিরিবিলি হওয়ায় লোকজনের চলাচল কম। এ সুযোগে কেউ বস্তাগুলো এখানে ফেলে রেখে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাতের আঁধারে কারা এসব বস্তা এখানে ফেলে গেছে, তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, সকালে ফোন পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে ৩৫ টার মত বস্তা পড়ে আছে দেখতে পায়। এলাকাবাসীর সহায়তায় বস্তার মুখ খুলে দেখা যায় প্রতিটা বস্তাতেই ঘোড়ার চামড়া, হাড় ও ভুঁড়ি রয়েছে। পরে উপজেলা ও পৌর প্রশাসনকে জানানো হয় এবং তারা এগুলো সরিয়ে নিয়ে একটি স্হানে মাটি চাপা দেওয়ার কথা জানিয়ে। এ ব্যাপারে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।