
(৩ ঘন্টা আগে) ৪ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, ২:০৩ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েন ও ফ্ল্যাট ব্যবসায় অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসমাইল হোসেন ও গফফার হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন লাভজনক প্যাকেজের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহের পর আত্মগোপনে চলে যান তারা। এ ঘটনায় করা মামলায় ইসমাইল হোসেনের সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
জানা গেছে, ইসমাইল হোসেন ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের শান্তিনগর-মিলননগর মহল্লার বাসিন্দা। তার গ্রামের বাড়ি ভূল্লী উপজেলার শুখানপুকুরি ইউনিয়নে। স্থানীয়দের কাছে ‘টাকার গাছ ইসমাইল’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ইসমাইল হোসেনের সাজা ও আরেকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে।
অপরদিকে, গফফার হোসেনের আদি বাড়ি কুড়িগ্রামে। তার বাবা একটি সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক। বাবার চাকরির সুবাদে ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের গোয়ালপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন গফফার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের দিকে কারও কাছে কয়েন, আবার কারও কাছে ফ্ল্যাট ব্যবসাসহ বিভিন্ন লাভজনক প্যাকেজের কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা । পরে আসল ও লাভের টাকা ফেরত না দিয়ে ইসমাইল ও গফফার আত্মগোপনে চলে যায়। ভূক্তভোগীরা আরও জানায় এই টাকা কেউ দিয়েছেন এনজিও থেকে ঋণ করে, কেউ দিয়েছেন ব্যাংক ঋণ করে, আবার কেউ দিয়েছেন ভিটেমাটি বিক্রি করে।
কথা হয় শাম্মী আক্তার নামে এক ভুক্তভোগীর সাথে। তিনি জানান আমার স্বামী বর্তমানে মৃত্যু পথযাত্রী, সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। আমার শশুর জমি বিক্রি করে, এ বিষয়টি ইসমাইল জানতে পারলে আমার স্বামীকে প্রায় সময় ডেকে নিতো। বিভিন্ন কথা বলে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় কিন্তু সেই টাকা আজও ফেরত পাইনি। টাকার অভাবে আমার স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি আদালতে মামলা দিয়েছি, সেই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।
ভূক্তভোগী আব্দুল মান্নান বলেন ইসমাইল একজন ভন্ড প্রতারক। দায়ের করা মামলায় ইসমাইল হোসেন কারাগারে থাকলেও পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও করেছেন তারা। এ ঘটনায় পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ভূল্লী উপজেলার জাটিভাঙ্গা বাজারে কথা হয় আলামিন ইসলাম বাবুর সাথে, সে জানায় ইসমাইলের গোটা পরিবার এই ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল। এক সময় ইসমাইলকে এলাকার মানুষ "টাকার গাছ ইসমাইল" হিসেবে চিনতো। সে এলাকার মানুষের কাছে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা এলাকায় আসতে পারে কি না সন্দেহ আছে।
আউলিয়াপুরে কথা হয় ইসমাইলের বোন এবং বোন জামাইয়ের সাথে, তারা জানায় সে শুধু নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি, গোটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে । আমাদের বাড়ি থেকে সোনা গয়না যা ছিল সবকিছু বিক্রি করে তাকে টাকা দেই। কিন্তু সেই টাকা আজও ফেরত দেয়নি, এখন আমার সংসার টিকছে না। কথা গুলো বলছিলেন ইসমাইলের বোন।
এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেনের সাথে হোয়াটস এ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমার বাড়িতে ফার্নিচার, টাকা পয়সা ছিল সে গুলো লুটপাট করা হয়েছে। তারা আমাকে এলাকাছাড়া করেছে।
তিনি আরও জানান আমি টাকা গুলো গাফফারকে দিয়েছি। কিন্তু গফফারের কোন সন্ধান পাচ্ছি না। অপরদিকে গাফফারের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), খোদাদাদ হোসেন বলেন এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন আসামিরা এলাকার বাইরে অবস্থান করায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”