
(৮ ঘন্টা আগে) ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার, ১:২২ অপরাহ্ন
স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা অর্জনের, নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার। সেই স্বপ্ন নিয়েই বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন মেহেদী হাসান শামীম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক এই শিক্ষার্থী ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এক ভয়াবহ ঘটনায় এখন তাঁর জীবনই পড়েছে গভীর সংকটে।
সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন শামীম। হঠাৎ একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ভর্তি করা হয় কিংস কাউন্টি হাসপাতালে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি একাই থাকেন। পাশে নেই পরিবারের কেউ, নেই আপনজনের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো পরিচিত মুখ। সুদূর বাংলাদেশে তাঁর পরিবার উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। আর নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালের বিছানায় একা শুয়ে জীবনের কঠিন সময় পার করছেন এই তরুণ শিক্ষার্থী।
ঘটনার পরপরই শামীম তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ানকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়েই দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ান। আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন তিনি।
অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো বর্ণবৈষম্যজনিত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থায় প্রত্যেক মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। শামীমের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে বর্ণবৈষম্য কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য? কেন একজন তরুণ শিক্ষার্থীকে এভাবে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে থাকতে হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে হাজার মাইল দূরে আসা একজন বাংলাদেশি তরুণের এমন বিপর্যয় শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের জন্যও উদ্বেগের বিষয়। বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা ও স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
আমরা প্রত্যাশা করি, মেহেদী হাসান শামীম দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
বাংলা আওয়ারের পক্ষ থেকে মেহেদী হাসান শামীমের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।