
(৪২ মিনিট আগে) ৮ নভেম্বর ২০২৬, রবিবার, ১০:৪৭ অপরাহ্ন
রাজধানীর সরকারি আবাসন থেকে সাবলেট ও ভাড়াটেদের সরাতে এবার অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পরও যেসব বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেট থাকছেন, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি আবাসনে সরেজমিন তদন্ত শুরু হয়েছে। এ জন্য পাঁচটি তদন্ত দল কাজ করছে। কোন সরকারি চাকরিজীবী বরাদ্দ পাওয়া বাসায় নিজে থাকছেন না এবং সেখানে ভাড়াটে বা সাবলেট রয়েছে, তা যাচাই করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
তবে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। ভাড়াটেরা কেন বাসা ছাড়েননি, সে বিষয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে বাসার বরাদ্দ বাতিল হতে পারে।
আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, অনেকেই নোটিশের পর বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ এখনো বাসা ছাড়েননি বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরপর বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবাসন পরিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ২৭টি এলাকায় সরকারি আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফ্ল্যাট আজিমপুরে ৩ হাজার ৪০৪টি। মিরপুরের পাইকপাড়ায় রয়েছে ১ হাজার ৭৩০টি, শিয়ালবাড়িতে ১ হাজার ৯১টি এবং মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে ১ হাজার ১১২টি ফ্ল্যাট।
গত ২৯ অক্টোবর সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সব সাবলেট ও ভাড়াটেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের নিজ নিজ বাসায় বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো বাসায় ভাড়াটে বা সাবলেট পাওয়া গেলে বরাদ্দ বাতিলের কথাও জানানো হয়।
এ নির্দেশনার পর আজিমপুর সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ অনেক ভাড়াটেকে বাসা ছাড়তে দেখা যায়। হঠাৎ বাসা ছাড়ার নির্দেশনায় বিপাকে পড়েন তাঁরা। অনেক শিক্ষার্থী অন্তত এক মাস সময় দেওয়ার দাবি জানান।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য ১১৪টি সচিব নিবাস ও ৭৯টি বাংলো রয়েছে। বাকি বাসাগুলো বিভিন্ন গ্রেডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।