
(২ বছর আগে) ৩১ মার্চ ২০২৪, রবিবার, ২:০৭ অপরাহ্ন
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ফুটপাতের মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে। তবে ফুটপাতে দেখা মেলে না আগের দৃশ্য। অল্প টাকায় দরদাম করে নিম্নবিত্তদের পোশাক কেনার পরিবর্তে একদামে মধ্যবিত্তরাই কিনছেন ফুটপাতের অধিকাংশ দোকান থেকে। আর ঈদের কেনাকাটা নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
মিরপুর শেওরাপাড়া এলাকা থেকে মিম (১৯) শনিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় এসেছিলেন ঈদের কেনাকাটা করতে। কিন্তু ছয় ঘণ্টা ঘুরেও তাদের বাজেটের মধ্যে কোনো পোশাক পাননি, তাই ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই। এখন ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে ঈদের কেনাকাটা করার পরিকল্পনা করছেন।
পোশাকের চড়া দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মিম বলেন, 'শপিং মলে একদাম, ফুটপাতেও একদামে কেনাবেচা চলছে। পছন্দ হলে দামে বনে না, আবার যেগুলো দাম কম সেসব আবার পছন্দ হয় না। গত বছরও একটা ওয়ান পিস জামা ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে কেনা যেত, এখন ফুটপাতেও এই ধরনের জামার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে প্রতি পিসে ১০০-২০০ টাকা।'
মৌচাকের আয়শা কমপ্লেএক্সের সামনে শার্টি বিক্রি করা সাইদুল ইসলাম বলেন, পোশাকের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন-আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বিক্রিও কমেছে।
তিনি বলেন, দুপুর ১টা থেকে এখন ৩টা পর্যন্ত কোনো বিক্রিই হয়নি তার। 'ক্রেতারা আসেন, পছন্দও হয়, কিন্তু দাম শুনলে চলে যান।'
রোজিনা ইসলাম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, 'বেশিরভাগ দোকানদার ফিক্সড প্রাইস লিখে রেখেছেন। অথচ সবশেষ সেগুলো দামাদামি করেই কিনতে হচ্ছে। দূরদূরান্ত থেকে আমরা যারা মার্কেট করতে আসি, তারা একদিনেই সব কাপড় কিনে নিয়ে যাই। এটা ব্যবসায়ীরা ভালো করেই জানে। সেজন্য দামটাও একটু বেশি চেয়ে বসে থাকে।'
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় তার সব কিছু যুক্ত করতে হচ্ছে কাপড়ের দামে। সেজন্য অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি রাখতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের কথার সঙ্গে দেশের মূল্যস্ফীতির স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠছে। গত দুই বছরে ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের কাছাকাছি বলে জানা যায় সরকারি হিসাবে। এছাড়া কিছু কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে ৫০-৬০ শতাংশ, যদিও মানুষের আয় ৫ শতাংশের বেশি বাড়েনি।