banglahour

ইমাম দির্দোষ, বললেন ঘুমিয়েপড়া জবি শিক্ষার্থী

শিক্ষা | অনলাইন ডেস্ক

(২ বছর আগে) ২৯ মে ২০২৪, বুধবার, ১:১১ অপরাহ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এশার নামাজের পর ছাত্রী ঘুমানোর আলোচিত ঘটনায় মসজিদের ইমাম মো. ছালাহ উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে ইমাম সম্পর্কে সেই ছাত্রী বলেছেন, মসজিদের ইমামের কোনো দোষ নেই। ইমাম খুব ভালো মানুষ, তিনি মসজিদে প্রবেশই করেনি।

জানা গেছে, সেই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, সেদিন রাতে আমি এশার নামাজের পর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘুম ভাঙে। লাইট অফ থাকায় ডাকাডাকি করি। এর মধ্যেই দুজন পাহারাদার আসে।তাদের কাছে বলি, নামাজের মধ্যে কখন যে ঘুমিয়ে গেছিলাম, বুঝতে পারিনি।

 

একটু পরে ইমাম আসেন। তিনি প্রক্টরকে ফোন দেন, আমিও প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা বলি। হাউজ টিউটরের সঙ্গে ফোনে কথা বলি।

ওনি আমাকে হলে চলে আসতে বলেন। এতে ইমামের কোনো দোষ নেই। ওনি খুব ভালো মানুষ। তিনি তো মসজিদে প্রবেশই করেননি।

 

মসজিদের প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে এশার নামাজের পর এক নারী শিক্ষার্থী শারীরিক অসুস্থতাবোধ করায় ঘুমিয়ে পড়েন।

হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখেন রাত সাড়ে ১০টা বেজে গেছে। পরে ছাত্রীর ডাকাডাকিতে দুজন পাহারাদার দৌড়ে আসেন। একটু পরে ইমাম এসে প্রক্টরকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। প্রক্টরও ফোনে কথা বলেন ওই ছাত্রীর সঙ্গে। 

 

পরে ছাত্রীটি হলের হাউজ টিউটরকে ফোন দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি বলেন। পরে মেয়েটি হলে চলে যান। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম মো. ছালাহ উদ্দিন বলেন, আমার কাজ মসজিদে নামাজ পড়ানো। কোথায় কে ঘুমিয়ে রয়েছে, সেটা দেখা আমার দায়িত্ব নয়। তাই নামাজ পড়িয়ে বাসায় চলে এসেছি। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক নিরাপত্তা কর্মী ফোন দিয়ে বিষয়টি আমাকে জানান। এরপর মসজিদের ভেতরে একজন মেয়ে শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন জেনেই আমি প্রক্টরকে ঘটনাটি জানাই। আমি এসে প্রক্টরের সঙ্গে ওই ছাত্রীকে ফোনে যোগাযোগ করিয়ে দিই। ওই ছাত্রী বললো, সে একা ছাত্রী হলে চলে যেতে পারবে। সে তখন চলে গেল। এর পর গত সোমবার শুনেছি আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি হয়েছে।

দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ছাত্রী হলের হাউজ টিউটর সাজিয়া আফরিন সেই রাতের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘হ্যাঁ, সে আমাকে ফোন দিয়েছিল। আমাকে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি বলে। তার সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারি, সে হলে নতুন হওয়ায় ভয় পাচ্ছিল। পরে আমি তাকে হলে ফেরার ব্যবস্থা করে দেই। নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে হলে দিয়ে আসে।’ ওই ছাত্রী তখন অসুস্থ ছিল। তাই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেছিল কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি বলেন, ‘না, সে কোনো অভিযোগ দেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি তো ইমামের বা মেয়ের দোষ দিচ্ছি না। বিষয়টা হলো, মসজিদে একটা মেয়ে ঘুমাবে, কিন্তু ইমাম জানবে না, এটা তো হতে পারে না। এটা কি তার দায়িত্বে অবহেলা নয়! এজন্য তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নামাজ পড়ানো থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

এদিকে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইমামকে অব্যাহতির ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, এ ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ মার্চ থেকে। সেদিন জাতীয় শিশু দিবস এবং জবি আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকার মৃত্যুতে আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মাহফিলে মসজিদের মিম্বরের পাশে নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন মহিলা উপাচার্য সাদেকা হালিম। এ সময় নারী-পুরুষ মসজিদে একসঙ্গে বসা ইসলাম ধর্মীয় বিধানের লঙ্ঘন জানিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। এ ঘটনার জের ধরেই ইমামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের ধারণা। 


 

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল