banglahour

৮ জুলাই রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় | অনলাইন ডেস্ক

(২ বছর আগে) ৭ জুলাই ২০২৪, রবিবার, ৩:৩৩ অপরাহ্ন

৮ জুলাই রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটা তার দ্বিতীয় বিদেশ সফর হতে যাচ্ছে। এর আগে, গত জুনে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। যেখানে তিনি রেল ট্রানজিটসহ বিভিন্ন বিষয়ে দশটি সমঝোতা স্মারক সই করেন।

জানা যাচ্ছে, এই সফরের মাধ্যমে নতুন বাজেটের ঘাটতি পূরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ এবং কর্ণফুলি টানেল তৈরির পর দেশটি এখন তিস্তা প্রকল্পেও যুক্ত হতে চাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চীন এত আগ্রহ দেখাচ্ছে কেন? এতে তাদের লাভ কী? বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। 

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, এই পুরো বিষয়টাতে বাংলাদেশের যতটুকু স্বার্থ রয়েছে, চীনের স্বার্থ তার থেকে একটুও কম না। তাছাড়া ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকেও চীনের কাছে বাংলাদেশের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।  

এসব প্রকল্পের মধ্যে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, কর্ণফুলি নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, ঢাকায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থঋণ দিয়েছে চীন। বস্তুতঃ চীন এখন বাংলাদেশে শীর্ষ ঋণদাতা দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যমতে, গত চার অর্থবছরে চীন এককভাবে বাংলাদেশকে প্রায় তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে।

আর ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটে’র (এইআই) ২০২৩ সালের এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, চীনের হাতে এখন পর্যাপ্ত পরিমাণে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, যা তারা বিনিয়োগ করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছে।  তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবশ্যই তাদের জন্য একটা ভালো অপশন, কারণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিজেও ঋণের সন্ধান করছে।

মূলতঃ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২০১২ সালে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওযার পর চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে শুরু করে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, যেসব প্রকল্পে চীন ঋণ দিচ্ছে, দেখা যাচ্ছে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোই সেখানে কাজ করছে। লোকবলেরও একটা বড় অংশ তাদের। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, অনুমতি নিয়ে কাজ করতে আসা চীনা নাগরিকের সংখ্যা ছয় হাজারের কিছু বেশি বলে উল্লেখ করা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি বলে মনে করেন অনেকে।

অন্যদিকে, বিভিন্নখাত মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় সাতশ চীনা কোম্পানি কাজ করছে বলে জানিয়েছে সরকার। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (এইআই) বলছে, গত কয়েক বছরে চীনা কোম্পানি গুলো বিভিন্নখাতের নির্মাণকাজের যেসব চুক্তি পেয়েছে, আর্থিক হিসেবে সেগুলোর পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বাণিজ্যিক স্বার্থ

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটে’র (এইআই) হিসেবে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাৎসরিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যি প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পৌঁছেছে। বিশাল এই অঙ্কের প্রায় সবটাই আমদানি করে বাংলাদেশ।

একক দেশ হিসেবে চীনের কাছ থেকেই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে দেখা যাচ্ছে, গত ১০ বছরে চীন থেকে পণ্য আমদানি প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে চীন থেকে বছরে যেখানে সাড়ে ছয়শ কোটি মার্কিন ডলারের মতো পণ্য আমদানি করা হতো, এখন সেটি বেড়ে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ

অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি ভূ-রাজনীতির কৌশলগত দিক থেকেও চীনের কাছে বাংলাদেশ একটা বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, বাড়তি এই গুরুত্বের প্রধান কারণ বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান।

মূলতঃ ইন্দো-প্যাসিফিক বা ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বসবাস করে, যা পণ্যের বাজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে, সমুদ্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এ অঞ্চলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন যে, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ অঞ্চলে আধিপত্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে চীনের জন্য এই পাঁচটি মূলনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে তারা এই নীতির আলোকেই বন্ধুরাষ্ট্র গুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। একইসঙ্গে, চলছে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ।

মূলতঃ এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের রেল ও সড়কপথ উন্নয়নে ঋণ দিচ্ছে চীন।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর নিজের একটি লেখায় ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলছেন, ২০২৩ সালকে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার সুফল পাওয়ার মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

কেননা, ওই বছর ডজনখানেক মেগা প্রকল্পের মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া বাকিগুলোর কাজেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে বলে চীনা রাষ্ট্রদূতের লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন,  চীন যা-ই চায় না কেন, নিজ দেশের স্বার্থ মাথায় রেখে আমাদের সরকারের এমনভাবে কাজ করা উচিৎ, যাতে অন্যদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ না হয়।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল