
(২ বছর আগে) ১৬ জুলাই ২০২৪, মঙ্গলবার, ১২:৪৮ অপরাহ্ন
সরকারি চাকরিতে ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। রোববার মধ্যরাতের পর সোমবার দুপুর থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ছাড়াও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের ওপর যতই হামলা-নির্যাতন হোক তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে সোমবার রাজধানীতে আন্দোলনে নেমেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। নতুন বাজারে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও কুড়িলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। এতে রামপুরা-কুড়িলগামী সড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ডিএমপি কমিশনার। রোববার মধ্যরাতে ঢাবি ক্যাম্পাসে বন্ধ করে দেওয়া হয় দ্রুতগতির মোবাইল ইন্টারনেট সেবা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজাকারসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে রোববার রাত ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টাখানেক পর হলগুলো থেকে মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন তারা। রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসা কুয়েত মৈত্রী হলের এক ছাত্রী বলেন, ‘অন্যায্য কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাদের অপমান করা হয়েছে, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। এটা কেউই করতে পারেন না। এর প্রতিবাদে আমরা এখানে এসেছি। শিক্ষার্থীদের অপমান করার অধিকার কারও নেই।’
রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ : রোববার রাতের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার দুপুর থেকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হতে থাকেন ঢাবির শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে সেখানে জড়ো হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্তত ১০-১২ হাজার শিক্ষার্থী। বিকাল ৩টার পর সেখান থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমবেত হন।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘কে রাজাকার কে রাজাকার, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, রাষ্ট্র কারও বাপের না’, ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘আমার স্বাধীন বাংলায়, একের কথা চলে না’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি’, ‘লাখো শহিদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না’ অ্যাকশন-অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, হামলা-মামলা দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা কোটা সংস্কারের একদফা দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছিলাম। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শিক্ষার্থীদের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি বাদে সবাইকে রাজাকারের নাতি-নাতনি বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা অত্যন্ত অপমানজনক। আমরা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই বক্তব্য দ্রুত এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাই।’