banglahour

কোমলমতি’ আবার কী!

মতামত | অনলাইন ডেস্ক

(২ বছর আগে) ১৪ আগস্ট ২০২৪, বুধবার, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনা তাঁর সর্বশেষ ভাষণে বলেছিলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।’ তাঁর হঠাৎ কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বিদায়ের পর যখন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিজয়োল্লাসে মেতে না থেকে পুলিশ আর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঘাটতি পূরণ করছে; দেশের সড়ক, রাজপথের যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে, আবর্জনা পরিষ্কার করছে, তখন আমাদের গণমাধ্যম বলছে, ‘ঢাকার রাজপথে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে “কোমলমতি” ছাত্রছাত্রীরা।’

কিন্তু বাংলায় যখন আমরা কম বয়সের মানুষদের ‘কোমলমতি’ বলি, তখন তাদের নরম বা তরল কিংবা কাঁচা বুদ্ধির মানুষ বলেই চিত্রিত করার চেষ্টা করি। আমাদের ধারণা, পাকা বয়স না হলে বুদ্ধিও পাকা হয় না। পাকা বয়সের লোকেরা যেটা সারা জীবনেও করতে পারে না বা করার হিম্মত রাখে না, সেটা কম বয়সের একটা মানুষ চোখের নিমেষে করে ফেললেও আমরা ভাবি কোমলমতিকে কেউ ‘চালাচ্ছে’। পেছনে কারও হাত আছে। পাকা বয়সের মানুষেরা সারা দিন পয়সার ধান্দায় থাকে বলে মনে করে শিশু–কিশোরদেরও কেউ ‘ফান্ডিং’ করছে। সত্যিকারের বিপ্লবে যে বিরিয়ানি লাগে না, এটা তাদের মাথাতেই ঢুকবে না। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দেখার পরেও না।

২০২২ সালের অক্টোবরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা নানা দাবিতে তাদের বিদ্যায়তনের সামনের রাস্তায় বিক্ষোভ দেখালে ‘সত্য অনুসন্ধানী’ কিছু সংবাদমাধ্যম শিরোনাম করে, ‘কোমলমতি ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামাল কে’। শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য বাধ্য হলে যে নিজেরায় রাস্তায় নামতে পারে, সেটা ‘পাকা বয়সের’ মানুষদের মাথাতেই ঢোকে না।

বছর তিনেক আগের কথা (অক্টোবর, ২০২১); ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে ধামশুর হালিমুন্নেছা চৌধুরাণী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে গিয়েছিল। একসময় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এগিয়ে আসে বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটাকে চলাচলের উপযোগী করে তোলে। রবি ও সোমবার দুই দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের অর্থায়নে ইটের সুরকি ফেলে রাস্তাটুকু সংস্কার করে।

সেই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। তাই আজকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা দেয়ালে যারা লিখছে, ‘কোমলমতিরা হুজুগে মেতেছে’, তারা ভুল। তাদের বয়স হলেও যে মতি (বুদ্ধি) হয়নি, সেটা নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। এ ঘটনার উল্লেখ করার কারণ হচ্ছে আমরা যে অনেক ভাগ্যে একটা দুর্দান্ত সাহসী আর গড়তে জানা প্রজন্ম পেয়েছি এবং সেটা যে দেশের সর্বত্র বিরাজমান, সেটা মনে করিয়ে দেওয়া।

ভাবুন, এই প্রজন্মের কাছে আমাদের মুখোশ খুলে গেছে। আমাদের পল্টি খাওয়া কালচার তারা ঘৃণা করে। তাঁরা লক্ষ করেছেন, একই মালিকের একই সাংবাদিক দল ২৭ জুলাই যে আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ বলছেন, ৬ আগস্ট তাকেই বলছেন ‘ছাত্র–অভ্যুত্থান’।

গওহার নঈম ওয়ারা লেখক গবেষক

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ হোসনে আরা বেগম
নির্বাহী সম্পাদকঃ মাইনুল ইসলাম
ফোন: +৮৮০১৬৭৪০৬২০২৩
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম
ফোন: +৮৮ ০১৭ ১২৭৯ ৮৪৪৯
অফিস: ৩৯২, ডি আই টি রোড (বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিপরীতে),পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা-১২১৯।
যোগাযোগ: তাহিরুল ইসলাম, ০১৭৭৮০০৪৭০০ contact@banglahour.com
অফিসিয়াল মেইলঃ banglahour@gmail.com
banglahour
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত নিউজ পোর্টাল