
(২ বছর আগে) ২৬ আগস্ট ২০২৪, সোমবার, ৩:৩২ অপরাহ্ন
বন্যার পূর্বাভাসের ব্যাপারে ভারতের কাছ থেকে তিন ধরনের তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাওয়া গেছে একটির তথ্য।
তিনটি প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে-
১. অভিন্ন নদীগুলোর উজানে কী পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই পানি কত গতিতে নিচের দিকে নেমে আসছে।
২. আগামী তিন দিনে বৃষ্টির পরিমাণ ও পানি বৃদ্ধির গতি কেমন হতে পারে।
৩. বাংলাদেশের উজানে ভারতীয় অংশের নদীগুলোয় যে ৬০টি বাঁধ রয়েছে, তা কোন সময়ে খুলে দেওয়া হবে এবং সেখান থেকে কী পরিমাণে পানি ভাটির দিকে আসতে পারে।
গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য চাওয়া হয়।
ভারত শুধু অভিন্ন নদীগুলোর ১৪টি পয়েন্টের পানি বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশ চেয়েছিল ২৮টি পয়েন্টের বিস্তারিত তথ্য। ১৯৭২ সালের যৌথ কমিশন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এই একটিমাত্র তথ্য দৈনিক দুবার পায়। বাংলাদেশে বন্যার পানির ৯২ শতাংশের উৎস হচ্ছে উজান থেকে আসা ঢল। ফলে উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ, গতিবেগ ও ব্যাপ্তিকাল বিস্তারিত না জানলে বন্যার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।
গত বছরের আগস্টে যৌথ নদী কমিশনের কাছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের উজানে ভারতের নদ-নদীগুলোর ১৪টি পয়েন্টের পানি বৃদ্ধির তথ্য দিনে দুবার করে দেওয়া হচ্ছে। ১৯৭২ সাল থেকে এ তথ্য দেওয়া হলেও তা বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের দরকার কমপক্ষে ২৮টি পয়েন্টের পানি বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য। এসব অভিন্ন নদ–নদীর উজানের পানি ও বৃষ্টির তথ্য দিনে দুবার পাওয়াও যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশের দরকার তাৎক্ষণিক তথ্য। যাতে হঠাৎ করে আসা বৃষ্টি ও ঢল মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া যায়। বন্যার পানি কোথায় কী পরিমাণে এবং কত উচ্চতায় আসতে পারে, অন্তত তিন দিন আগে সেই তথ্য জানা দরকার।